February 26, 2025, 8:29 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2023-12-04 13:27:43 BdST

নজিরবিহীন গণবদলি, পছন্দের থানায় যেতে ওসিদের দৌড়ঝাঁপ


পছন্দের থানা পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বদলির নির্দেশ দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রীতিমত ধরনা দিচ্ছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুবিধামতো থানা পেতে নানা ‘মানবিক’ কারণ সামনে আনছেন তারা। অনেকেই নিজের সন্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবারের সদস্যদের কারও কারও অসুস্থতার চিত্র তুলে ধরছেন বড় কর্মকর্তাদের কাছে। কেউ কেউ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও ছুটছেন তদবির নিয়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একই থানায় ওসির দায়িত্বে রয়েছেন—এমন কর্মকর্তাদের অন্য জেলা বা অন্যত্র বদলির জন্য ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়। এর পরই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একই স্টেশনে থাকা ওসিদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। সে অনুযায়ী গতকাল রোববার পর্যন্ত সারা দেশে ৬৩৬ থানার মধ্যে ৩২৬ ওসিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা ছয় মাস থেকে তারও বেশি সময় ধরে একই থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। ওই তালিকায় ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) ৩৩ জন ওসি রয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের সব থানার ওসিদের বদলির সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার ইসি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্তে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে বদলি করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে যেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের অধিক চাকরিকাল সম্পন্ন হয়েছে, তাদের অন্য জেলায় বা অন্যত্র বদলির প্রস্তাব আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা প্রয়োজন।’

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে ওসিদের বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তা ছাড়া পরিদর্শকদের থানায় ওসি হিসেবে পদায়নের একটা নীতিমালা রয়েছে। ইসির নির্দেশনা বাস্তবায়নে সেটিও দেখা হচ্ছে। কারও তদবিরের জোরে পছন্দের জায়গায় বদলির সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত দুই বছরের জন্য ওসিদের থানায় নিয়োগ দেওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পরিদর্শকদের বদলি করে মেট্রোপলিটন এবং রেঞ্জে পাঠানো হয়। এরপর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির আদেশে থানায় ওসিদের পদায়ন হয়।

এই ওসি বদলি ও পদায়নে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নীতিমালা রয়েছে, যা প্রায় সময় পালন করা হয় না। বেশিরভাগ থানাতেই নানা তদবিরে ওসি পদায়ন হয়ে থাকে। অনেক ‘প্রভাবশালী ওসি’ নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলোতেও পদায়ন নেন। অনেক এলাকায় এমপি, মন্ত্রীসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা তাদের পছন্দের কর্মকর্তাকে ওসি হিসেবে পোস্টিং করে নিয়ে থাকেন। এজন্য একই জেলা বা মেট্রোপলিটনে ঘুরেফিরে পরিচিত মুখ ওসির দায়িত্ব পালন করে থাকেন। একই জেলা বা মেট্রোপলিটনে বছরের পর বছর ধরে একই ওসিদের দেখা যায়। নিয়ম রক্ষায় শুধু জেলার ভেতরই তাদের থানা বদল করা হয়। এ ধরনের কর্মকর্তারা এবার বিপাকে পড়েছেন। তারা নানা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করলেও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না।

কয়েকটি থানার ওসির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ ধরনের ‘গণবদলির’ জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন না। বিভিন্ন নির্বাচনের আগে কেবল পক্ষপাতমূলক আচরণ বা দায়িত্ব পালনে সমোলোচনা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। এবারই প্রথম সব থানার ওসিকে বদলির নির্দেশনা আসায় তারা অনেকটা বিস্মিত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে ওসি বদলির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে একসঙ্গে তিন শতাধিক ওসিকে বদলি ও পদায়ন করা কঠিন কাজ হবে। কারণ, একটি নির্বাচনী আসনে একাধিক থানা রয়েছে। এতে চাইলেই ওসিদের থানা বদল করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে হয়তো অনেককে জেলা থেকেই বদলি করতে হবে। সে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এজন্য হয়তো ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে তালিকা পাঠানো সম্ভব নাও হতে পারে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.