February 27, 2025, 7:01 am


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2023-12-29 18:41:04 BdST

নজরদারিতে ১০ মন্ত্রী


আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ জন মন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে আছেন। তাদের নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে এবং শক্তিশালী প্রার্থীর কাছে পরাজয় এড়ানোর জন্য তারা প্রশাসনে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি ঊর্ধ্বতন টিম এই ১০ জন মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার সার্বিক কার্যক্রম দেখভাল করছেন এবং সে সমস্ত এলাকায় কোন রকম অনিয়ম আছে কিনা বা কোনরকম প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়াল। 

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নির্বাচনে এই ১০ জন মন্ত্রী যদি কোনো কারণে যদি কোনরকম কারচুপি করার চেষ্টা করেন তাহলে কমিশন কঠোর হস্তে দমন করবে।

যে ১০ জন মন্ত্রীকে নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান এবং শিল্প মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। এই সমস্ত মন্ত্রী ছাড়াও যে তিনজন প্রতিমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের নজরদারির মধ্যে রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এই ১০ জন মন্ত্রীকে তাদের নির্বাচনী এলাকায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই ১০টি নির্বাচনী এলাকার অন্তত একটিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে এরকম অভিযোগ এসেছে যে, শেষ মুহূর্তে এই নির্বাচনী আসনগুলোতে কারচুপি হতে পারে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য চেষ্টা করা হতে পারে। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে, সরকার নির্বাচনে নিরপেক্ষতার ব্যাপারে শতভাগ অঙ্গীকারাবদ্ধ। কোন মন্ত্রী বা কাউকে জেতানোর দায়িত্ব আওয়ামী লীগ নেবে না। কিন্তু আবার বিভিন্ন সূত্র বলছে যে ১০ জন মন্ত্রী যদি নির্বাচনে পরাজিত হয় সেটা আওয়ামী লীগের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা হতে পারে।

এরকম বিবেচনা থেকে শেষ পর্যন্ত তাদেরকে জেতানোর ব্যাপারে প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনরকম অনিয়ম বরদাস্ত করবে না। যেখানে অভিযোগ পাবে তা প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ১০ মন্ত্রীর আসন ছাড়াও অন্তত ৭০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ঝুঁকির মুখে আছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.