বিশেষ প্রতিবেদক
Published:2023-12-30 13:15:38 BdST
নির্বাচনের দিন থেকে বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা বিরোধীদের
ভোটের পরেই বিরোধী দলের আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে—এমনটা যারা মনে করছেন তাদের ধারণা ভুল। বরং বিএনপি সহ ৩৪টি বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনের পরও তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখা এবং আন্দোলনে নতুন মাত্রা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচন যদি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় তারপরও বিএনপিসহ তার সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। বরং তখন তারা নতুন নতুন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিভিন্ন ধাপে।
নির্বাচনবিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আন্দোলনকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছে। প্রথমভাগে নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলন করছে। যে আন্দোলন এখন চলমান। এই আন্দোলনের দুটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে তারা হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করেছে, যেন জনগণ ভোটের ব্যাপারে আগ্রহী না হয় এবং ভোট কেন্দ্রে ভোটের দিন না যায়। দ্বিতীয় ভাগে এখন তথাকথিত অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি চলছে।
যদিও সেই আন্দোলনে জনগণ এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। যেখানে লোভনীয় কিছু অফার দেওয়া হয়েছিল। যেমন বিদ্যুতের বিল না দেওয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। পানির বিল না দেওয়ার জন্য এবং অন্যান্য সরকারি খাজনা ট্যাক্স না দেওয়ার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই সমস্ত ঝামেলার মধ্যে যেতে চাইনি।
এখন ১ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ কর্মবিরতি নামে এক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যে কর্মসূচিতে জনগণকে অফিস আদালতে না যেয়ে ঘরে বসে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরিবারকে সময় দিতে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কর্মসূচিও শেষ পর্যন্ত সফল হবে না।
এখন বিএনপির অন্যতম সহযোগী রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলাম ৩ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা, নাশকতা, ট্রেনে আগুন, বাসে আগুন ইত্যাদি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক এবং ভীতি সঞ্চারের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ কম হয়।
বিএনপির বিভিন্ন নেতারা বলছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হল যে, ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে না যায় সেটা নিশ্চিত করা। এই নির্বাচনে বিএনপি না থেকেও আছে। যদি নির্বাচনে ৩০ শতাংশের ওপরে ভোট হয়, তাহলে মনে করতে হবে যে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে। আর যদি ভোটার উপস্থিতি ৩০ শতাংশের কম হয় তাহলে মনে করতে হবে যে বিএনপি জয়ী হয়েছে। সেই ভোটের জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়ে বিএনপি এবং তার মিত্ররা চেষ্টা করছে ভোটার উপস্থিতি যত কম হয় ততটা নিশ্চিত করার জন্য।
আর সেই লক্ষ্যে শুধু গণসংযোগ নয়, তারা সন্ত্রাস এবং নাশকতার ওপর একটা বড় ধরনের গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি যারা রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের টার্গেট কিলিংয়ের নীলনকশা নিয়েও বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে একাধিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা এসবে মোটেও ভীত নয়। তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং এই ধরনের নাশকতা, তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আর শেষ পর্যন্ত যদি ৭ জানুয়ারি নির্বাচন হয়ে যায় যেটি হয়ে যাবে বলেই এখন ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে তখন বিএনপির সামনে একটি বিকল্প থাকবে তা হল নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
সেই আন্দোলনটি আরও ব্যাপক বিস্তৃত হবে বলে বিএনপি নেতারা বলছেন। এই সময়ে তারা বর্তমান সরকারকে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবেন এবং একটি অবৈধ সরকার হিসেবে তারা ঘোষণা করবেন। পাশাপাশি একটা বিকল্প প্রবাসী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পরিকল্পনাও বিএনপির নেতাদের মধ্যে রয়েছে। সেই সাথে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে এবং আন্তর্জাতিক একটা মতামত তৈরি করার জন্য কাজ করবে। এরকম পরিকল্পনা থেকে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ ৭ই জানুয়ারি নির্বাচন হয়ে গেলেই সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমনটি নয়। বরং বিএনপি নেতারা বলছেন, সেদিন থেকে আসল খেলা শুরু হবে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.