February 26, 2025, 11:09 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2024-01-11 23:50:01 BdST

নতুন মন্ত্রিসভার পাঁচ অগ্রাধিকার


আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হল। নতুন মন্ত্রিসভায় রাজনৈতিক একটি চরিত্র আছে। বেশ কয়েকজন পোড়খাওয়া ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে যথারীতি ব্যবসায়ীদের প্রধান্য আছে। কোনো কোনো মন্ত্রীকে অনেকেই ভাগ্যবান মনে করছেন।

উপমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন ফরহাদ হোসেন এবং ধর্মমন্ত্রী ফরিদ উদ্দিন খান।

কিন্তু এ সমস্ত কিছু ছাপিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা দেশকে কীভাবে পরিচালনা করবে? দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা কীভাবে সমাধান করবে এটি হল সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। 

নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নিয়েই মন্ত্রিসভার সামনে পাঁচটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা না করতে পারলে এই মন্ত্রিসভাও বিগত মন্ত্রীসভার মতো সমালোচিত হবে। যে পাঁচটি অগ্রাধিকার নতুন মন্ত্রিসভার সামনে রয়েছে তার মধ্যে

দ্রব্যমূল্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিগত পাঁচ বছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতিতে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা বা করোনা মহামারী পরবর্তী পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দেশের উৎপাদিত পণ্যগুলো যখন সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির দিকে ধাবিত হয়, তখন তাকে কোনভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে সংঘটিত বলে মনে করার কারণ নেই।

কাজেই বর্তমান সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়। এই মন্ত্রিসভা গঠনে দুই মাসের মধ্যে রোজা শুরু হচ্ছে। রোজায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি একটা স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণকে স্বস্তি দিতে হবে নতুন সরকারকে। 

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা

গত পাঁচ বছরে অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খল অবস্থা একটা জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে যে স্বস্তি ছিল সেই স্বস্তি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অর্থপাচার একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া ঋণ খেলাপির সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

এরকম অবস্থায় নতুন সরকারের জন্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতিতে একটি সুস্থ এবং সঠিক ধারা নিয়ে আসতে হবে। এটি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করা অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন অর্থমন্ত্রী কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন সেটি দেখার বিষয়। 

আন্তর্জাতিক কূটনীতি

এই নির্বাচনকে এখন পর্যন্ত মেনে নেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। যদিও যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের পর নানা রকম বিধিনিষেধ প্রয়োগ করবে। কিন্তু বাস্তবে সে ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করেনি।

বরং নতুন যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলো তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম কাজ হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং তাদের সাথে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা।

দুর্নীতি প্রতিরোধ

গত পাঁচ বছরে ব্যাপক আলোচনার বিষয় ছিল দুর্নীতি প্রতিরোধ। বিশেষ করে দুর্নীতি একটি মহামারির আকার ধারণ করেছিল। আর এই দুর্নীতি প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে।

এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন সরকার কীভাবে যুদ্ধ করে এবং সেই যুদ্ধে তাদের সত্যিকারের অবস্থান কী হয় সেটি দেখার বিষয়। সরকারের চারপাশে অনেক দুর্নীতিবাজের আনা গোনা আছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

সরকারকে এই দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে দূরত্ব রাখতে হবে। পাশাপাশি একটি জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিরোধী রাজনীতি মোকাবিলা

নির্বাচনের পর সরকার কী করবে? বিএনপি সহ বিরোধী দল যারা নির্বাচন বর্জন করেছিল তাদের সাথে সরকার কী একটি রাজনৈতিক সমঝোতা করবে? জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করবে নাকি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যে অভিযান তা অব্যাহত রাখবে।

এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যতের গতিপ্রবাহের অনেক কিছুই। এখন দেখার বিষয় পাঁচ অগ্রাধিকার মোকাবিলায় সরকার কী কৌশল গ্রহণ করে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.