February 26, 2025, 6:26 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2024-01-29 03:21:42 BdST

কর্মীরা চায় আন্দোলনের পরিবর্তে সম্মেলন


বিএনপি এখন নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি যেদিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে, সেদিন কালো পতাকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

শুধু বিএনপি একা নয়, বিএনপির সঙ্গে তার মিত্র দলগুলো স্ব স্ব অবস্থান থেকে একই ধরনের কর্মসূচি দিয়েছে। এই কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগও ঐ দিন শান্তি সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

তবে নির্বাচনের পর বিএনপির এই আন্দোলনের কর্মসূচিতে সায় নেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। কর্মীরা আন্দোলন নয়, আগে সম্মেলন চায়। 

বিএনপির কর্মীরা মনে করে, আগে দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে হবে। দলকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে এমন যোগ্য নেতাদের সামনে আনতে হবে। অসুস্থ অথর্ব কর্মহীন নেতৃত্বকে বাদ দিতে হবে। তারপর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা যাবে।

সঠিক নেতৃত্বে আন্দোলন করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব বলে তৃণমূল বিএনপির নেতারা মনে করছেন। আর এই কারণেই তারা এখন আন্দোলন নয়, বরং আগে সম্মেলন করতে চায়। 

উল্লেখ্য, বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে বিএনপির এই ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়। কাউন্সিলের ১১দিন পর ৩০ মার্চ মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। আর ২০১৮ সালে দুর্নীতির একটি মামলায় দণ্ড নিয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় তারেক জিয়াকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির নতুন সম্মেলন হয়নি। 

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা হিসেবে পরিচিত স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকটি পদ খালি রয়েছে।। সেই পদেও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২৮ অক্টোবর থেকে জেলে, সেই জায়গায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাউকে করা হয়নি।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনেক সদস্যই নেই। হয় দল ত্যাগ করেছেন অথবা মৃত্যুবরণ করেছেন কিংবা দলের দল থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছেন। কিন্তু সেই সমস্ত শূন্যস্থানগুলো পূরণ করা হয়নি।

হিসেব করে দেখা গেছে, দলের নির্বাহী কমিটির প্রায় অর্ধেক পদই এখন খালি পড়ে আছে। এরকম অবস্থায় দল পরিচালনা করার মতো উপযুক্ত নেতৃত্ব দলে নেই বলে মনে করছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য আছেন, যারা কোন দায়িত্বই পালন করছেন না, তারা অসুস্থ।

তাদেরকে কেন এই ধরনের পদে আগলে রাখা হয়েছে সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে স্থায়ী কমিটিতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার বা রফিকুল ইসলাম মিয়ার মতো ব্যক্তিদেরকে রাখা নিয়ে দলের মধ্যে এখনও ক্ষোভ অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠেছে। 

বিএনপির একজন মাঠপর্যায়ে নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ যদি আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদের মতো নেতাদেরকে উপদেষ্টামণ্ডলী বানিয়ে বসিয়ে রাখতে পারে, তাহলে বিএনপি কেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার বা রফিকুল ইসলাম মিয়ার অসুস্থ নেতাদেরকে স্থায়ী কমিটিতে রাখছে?

স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো কেন পূরণ হচ্ছে না—এ নিয়েও প্রশ্ন। তবে বিএনপির অধিকাংশই এখন মনে করে নির্বাচন হয়ে গেছে। এখন এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অর্থহীন। এখন সংগঠন প্রথমে গোছাতে হবে। আর এই সংগঠন গোছানোর জন্য প্রথম দরকার তৃণমূলের মতে, একটি সম্মেলন অনুষ্ঠান করা। অনতিবিলম্বে একটি কাউন্সিল করে নতুন নেতৃত্ব আনার ব্যাপারে দলের মধ্যে রীতিমতো আওয়াজ উঠেছে।

তারা মনে করে সম্মেলন করে তরুণ ও প্রবীণের সমন্বয় করে যারা দলকে সময় দেন, দলের জন্য কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলেই কেবল দলটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

তাছাড়া বিএনপির নেতারা বলছেন, অধিকাংশ জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাই এবং বছরের পর বছর আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কাজ করছে। এই আহ্বায়ক কমিটির অনেকে এখন নিষ্ক্রিয় অথবা বহিষ্কৃত। সংগঠনগুলোর অবস্থাও একই। একটি সংগঠন এভাবে চলতে পারে না বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

তাই তাদের মতে এই মুহুর্তে আন্দোলন না করে আগে সম্মেলন করা হোক।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.