বিশেষ প্রতিবেদক:
Published:2024-02-04 18:35:06 BdST
গনপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী আতঙ্ক!
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়। সরকারের ঘোষিত ১০০ দিনের কর্মসূচির শুরুতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে নীতিগতভাবে কঠোর মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী।
দায়িত্বভার গ্রহনের প্রথমদিনেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন অধিদপ্তরের একাধিক সভাতেও দুর্নীতিবাজ ও তেলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে মন্ত্রী ও সচিবকে।
এবার দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর পরিচালনার ছক আঁকছে সরকার। একাধিক সূত্র এই বিষয়ে গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেটের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর পরিচালনার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারেও বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তার অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে।
অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী র. আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী তার দায়িত্বভার গ্রহন করার পর প্রথম দিবসেই তার মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সমূহে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট মুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ও সিন্ডিকেটের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে প্রথমেই তাদের বদলী করার দাবী উঠেছে। শক্তিশালী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া যে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অধিদপ্তরকে জিম্মি করে রেখেছে।
রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে একটি তালিকাও তৈরি করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে “দ্য ফিন্যান্স টুডে” নিশ্চিত হয়েছে।
দুর্নীতিপরায়ণ ও সিন্ডিকেটের সাথে নামে বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছে এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকৌশলীর আমলনামা ও অবৈধ সম্পদের তালিকা “দ্য ফিন্যান্স টুডে” অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
বর্তমান ও সাবেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও অদৃশ্য কারণে তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। দুদকও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কাউকেই ছাড় দেয়নি। ভবিষ্যতেও সেই সুযোগ নাই।
সরকার যখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে তখন দুর্নীতিবাজদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। অচিরেই বড় ধরনের একটা বদলীর মাধ্যমে অধিদপ্তরে প্রকৃত মেধাবী ও অপেক্ষাকৃত সৎ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হবে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। বিশেষ করে বড় বড় প্রকল্প ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন যে সমস্ত কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত তাদের আমলনামা সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে নাম-বেনামে অবৈধভাবে ঠিকাদারী ব্যবসায় সম্পৃক্তার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তাদের বিত্ত বৈভব এতটাই বেশী যে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।
বিগত দিনে কিছু কিছু কর্মকর্তা যারা সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের অত্যন্ত আস্থাভাজন, তাদের মধ্যে অনেকে পুনরায় বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠার আপ্রান চেষ্টা করছে।
ইতোমধ্যে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করে ই-এম শাখার এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছে। ই-এম শাখার এই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়কোবাদ সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের ক্যাশিয়ার হিসেবে খ্যাত। এনিয়ে অধিদপ্তর জুড়ে এক ধরনের আলোচনার ঝড় বইছে।
অতি সম্প্রতি বিগত ২৫ জানুয়ারি মোঃ ফজলুল হক; নির্বাহী প্রকৌশলী, শেরেবাংলা নগর বিভাগ-১ ঢাকায় কর্মকালীন সময়ে “ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট এন্ড হাসপাতাল” নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় বিলে ১০৪৪.৯০ লাখ টাকা M/S/GKBPL-PAEL ঠিকাদারকে অগ্রিম প্রদান করেন যদিও গণপূর্ত অধিদপ্তর ঠিকাদারের অন্যান্য প্রকল্পসহ বর্ণিত প্রকল্পের Retention on Money হতে ১০৪৪.৯০ লাখ টাকা কর্তন করে সরকারের কোষাগারে জমাদান পূর্বক ঠিকাদারকে প্রদত্ত অগ্রিম টাকা সমন্বয় করা হয়।
সেই কারণে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে গুরুদন্ড প্রদান না করে লঘুদন্ড প্রদান করে। কারণ সংশ্লিষ্ট অর্থ সমন্বয় করায় রাষ্ট্রও বড় ধরনের ক্ষতি হতে রক্ষা পায়।
অভিযুক্ত মোঃ ফজলুল হককে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৪ এর উপবিধি-২ এর (ঘ) অনুযায়ী বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ অর্থাৎ তার বর্তমান বেতন গ্রেডের প্রারম্ভিকভাবে নামিয়ে দেয়ার দন্ড প্রদান করে। এই আদেশ জারী হওয়ার পর থেকে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.