নিজস্ব প্রতিবেদক
Published:2024-02-06 20:31:15 BdST
অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বিভক্ত আমলারা
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নানা কারণে এবার নির্বাচন নিয়ে আমলাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এবং বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আজ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার কথা। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যার লড়বেন তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
অফিসার্স ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদাধিকার বলে এই ক্লাবের সভাপতি থাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকেন এবং সাধারণ সম্পাদক-কোষাধ্যক্ষ সহ আরো কয়েকটি পদে সরাসরি ক্লাবের সদস্যদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবার নির্বাচন জমজমাট হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য দু’জন হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাবেক যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন বর্তমানে অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আবার এই পদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে, তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলম এবার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এই দুই হেভিওয়েট শীর্ষ পর্যায়ের আমলার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এই নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত যে, একই রকম পরিস্থিতি আগেও একবার হয়েছিল। সেবার আবু আলম শহীদ খান তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকা অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন স্বাস্থ্যসেবা সচিব এম নেয়াজউদ্দিনের সঙ্গে। সেই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের পর এম নিয়াজউদ্দিনকে তিনি পরাস্ত করেন। এরপর আবু আলম শহীদ খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়নি। তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে এম নিয়াজউদ্দিন সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এরপর অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে তেমন উত্তেজনা হয়নি। তবে, এবার এই নির্বাচনে দুই পক্ষই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্বাচনের আঁচ এখন সচিবালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে।
মেজবাহ উদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর আলম দু’জনই কৃষিবিদ এবং এখন আমলাদের মধ্যে কৃষিবিদদের প্রাধান্য রয়েছে। মেজবাহ উদ্দিনের পক্ষে অফিসার্স ক্লাবে বহুবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবু আলম শহীদ খান কাজ করছেন এমন কথা রয়েছে। আবার জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষেও বেশ কিছু আমলা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ফলে এই নির্বাচনটিকে ঘিরে আমলাদের মধ্যে এক ধরণের মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ভোটের ইস্যুতে আমলারা বিভক্ত হয়ে পড়ছেন।
অবশ্য, কেউ কেউ মনে করছেন যে, আমলাদের মধ্যে যে গ্রুপিং এবং বিভক্তি, সেই বিভক্তিরই একটি বহিঃপ্রকাশ ঘটছে অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনে। আমলাদের মধ্যে এই বিভক্তির বহিঃপ্রকাশ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.