February 26, 2025, 1:45 pm


নেহাল আহমেদ

Published:
2024-02-09 12:05:27 BdST

লেখকের কোন দায়বদ্ধতা নেই


রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন আপনি আর দায়বদ্ধতা লেখকের? ওয়াজ নছিয়ত পুজাঁ করে সুবিধা নিবেন আপনি আর দায়বদ্ধতা লেখকের? লেখক কখনো কোন নেতা হয়েছে? পার্লামেন্টে এসি রুমের সুবিধা পেয়েছে? জনগনের টাকায় কেনা গাড়ী ব্যবহার করেছে?

পায় যে না তা বলাও মুসকিল। এখন তো অনেক লেখকই সরকারের অনুগত হওয়ার জন্য সেজদায় থাকেন। সরকারের পুরস্কার পাওয়ার জন্য কামড়া কামড়িতে লিপ্ত থাকেন। কোন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই একটা প্রতিষ্ঠানে চাকুরির নিশ্চয়তা। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে ইঁদুর দৌড়ে নেমেছেন।

তা হলে লেখকের কি সত্যিই কোন দায়বদ্ধতা নেই। অবশ্যই আছে। প্রতিটি নাগরিকের যেমন আছে। লেখকেরও আছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা। বিশ্বের প্রতি দায়বদ্ধতা। এই দায়বদ্ধতাই আপনার জাতকে জানাবে।

একজন লেখকের মনকে সব সময় সুন্দরের শাশ্বত রূপ খুঁজতে ব্যাকুল থাকতে হয়। মানুষ সমাজ, সভ্যতা, দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর স্বতঃসিদ্ধ অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন। এগুলোকে অগ্রাহ্য করে, অবহেলা করে কিংবা এড়িয়ে সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের মতো একটি বুর্জোয়া রাষ্ট্রে একজন লেখক কি নিয়ে কাজ করেন? আমরা এমন একটি সমাজে এসে পৌঁছেছি যেখানে পুঁজির অসম বিকাশের মধ্য দিয়ে কতিপয় মানুষ ধনী হয়ে উঠছে। সমাজের সার্বিক নিরাপত্তা বিপন্ন। সমাজে শ্রেণির ভেতরে দূরত্ব বাড়ছে। বৈষম্য-বঞ্চনা ভয়াবহ আঁকার নিয়েছে। এই সময় বুদ্ধিজীবীরা সবাই সরকারের চারদিকে ঘিরে তার গুণগানে ব্যস্ত। বুদ্ধিজীবী বলতে যে শ্রেণি সর্বদাই মধুপানে ব্যস্ত।

সংবাদপত্রের অবস্থা তথৈবচ। এসময় লেখক-শিল্পী ছাড়া অচলায়তনের বিরুদ্ধে কে দাঁড়াবে।বর্তমানে তার আকাঙ্ক্ষিত মুক্তির ধরনটাই বা কেমন হওয়া প্রয়োজন? যদি তিনি সংবেদনশীল হন, যদি তিনি সামাজিক বৈষম্য ও বিচারহীনতা দেখে শক্ত হাতে কলম ধরেন এবং সেটা মানুষের পক্ষে যায়, তাহলে বলা যায় সেই লেখক বুর্জোয়া নন, তার পক্ষপাতিত্বর নির্দিষ্ট কারণ আছে।

ইদানিং হরেক রকম লেখক দেখা যায়। কেহ কেহ আছেন জাত লেখক। কেহ কেহ আছেন সৌখিন লেখক, কেহ কেহ আছেন সমাজে একটা জায়গা করে নেয়ার জন্য হওয়া লেখক।

রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এরশাদ স্বৈশাসনের বিরুদ্ধে কবি মোহাম্মদ রফিকের সাহসী উচ্চারণ ছিলো ‘সব শালা কবি হবে/ পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে উড়বেই/ দাঁতাল শুয়োর এসে রাজাসনে বসবেই।’

কবি নবারুণ ভট্টাচার্য একই কারনে লিখলেন ‘এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না- কী শাণিত উচ্চারণ।

কবি রফিক আজাদ বললেন- আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ, ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।

বিক্রিত হওয়া কলম আর বর্তমান সময়ের বড় একটি অংশ লেখক/ কবির কলম যেন কিছুটা নড়বড়ে আর তৈলাক্ত এবং অনেক সময় তা হয়ে ওঠে অ-কবিতা, অশিল্প।

প্রতি বছর বই মেলায় হাজার হাজার বই বের হয়। তার মধ্যে কতটুকু সাহিত্য মূল্য আছে? কিছু টাকা থাকলেই বই বের করা যায়। পাবলিশার্সের ভুমিকাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। হয়তো এমন দিন আসবে যেদিন দেখা যাবে শুধু বই ছাপা নয় লেখার দায়িত্বও পাবলিশার্স নিয়ে নেবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.