January 1, 2026, 11:39 am


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2026-01-01 09:03:57 BdST

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার


বিগত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স ছিল ধারাবাহিকভাবে হতাশাজনক। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দেশের শেয়ারবাজার।

এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বাজারের সঙ্গে তুলনায় এই চিত্র আরও স্পষ্ট।

ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার পুঁজিবাজার ২০২৫ সালে প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল।

চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে। আগের বছর এই সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে পাকিস্তানের কেএসই সূচক ২০২৫ সালে ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে। ২০২৪ সালের শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ৭২ হাজার ১৬০ পয়েন্ট।

শ্রীলংকার সিএসইঅল সূচক ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে, যা ২০২৪ সালের শেষে ছিল ১৫ হাজার ৮২৭ পয়েন্ট।

ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচক ২০২৫ সালে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে। ২০২৪ সালে সূচকটি ছিল ৭৮ হাজার ৩৫৮ পয়েন্ট।

সূচক কমলেও ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে। এই বছর বাজার মূলধন ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকায়।

তবে লেনদেনের চিত্র ছিল বিপরীতমুখী। ২০২৪ সালে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। এই সময়ে দৈনিক লেনদেন কমেছে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান হবে এবং শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিছু ঘটনায় অপরাধীদের বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হলেও তা বাস্তবে আদায় হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা যায়নি।

এই সময়ে পুঁজিবাজারের অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্বও স্পষ্ট ছিল। ফলে যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগই বাস্তবায়িত হয়নি। কেবল মার্জিন রুলস বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়েই বাজার থেকে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত আরও আটটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে পুঁজিবাজার নিয়ে দেশের বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা ছিল, তার বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি। আগের বছরের মতো চলতি বছরও হতাশার সঙ্গেই সময় শেষ করেছেন দেশের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.