নেহাল আহমেদ, কবি ও সাংবাদিক
Published:2026-02-01 13:18:45 BdST
২১ ফেব্রুয়ারির ভাবনায় সাহিত্য
২১ ফেব্রুয়ারি শুধু ইতিহাস নয়, এটি চেতনার এক প্রতীক। এদিনের গভীর ভাবনা আমাদের মনে করায়—ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তি কতটা মূল্যবান। ভাষা শুধু শব্দ নয়; এটি পরিচয়, অধিকার, আবেগ এবং সংগ্রামের অস্ত্র। সেই সংগ্রামের মর্ম বোঝাতে সাহিত্যই সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
বর্তমান সমাজে সাংস্কৃতিক চরম অবক্ষয় ঘটেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা পারিবারিক জীবনে যে গুণগত উৎকর্ষতা থাকা উচিত ছিল, তা আজ অনুপস্থিত। আচরণে অশালীনতা, চিন্তায় অগভীরতা, সহমর্মিতার অভাব, অন্যায়ের সঙ্গে আপস—এই সব মিলিয়ে সংস্কৃতি এখন আর মানবিক মূল্যবোধের ধারক নয়; বরং সুবিধাবাদের বাহন হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে—সাহিত্য কি নিছক বিলাস, নাকি এটি এই অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে? উত্তরটি সহজ নয়, কিন্তু স্পষ্ট। সাহিত্য মানুষকে থামিয়ে দেয়, ভাবতে বাধ্য করে, অস্বস্তিতে ফেলে। আজকের সংস্কৃতি দ্রুত, প্রদর্শনমুখী ও দায়হীন। আমরা প্রতিক্রিয়া দিই, কিন্তু ভাবি না; শেয়ার করি, কিন্তু বুঝি না। এই অবস্থায় সাহিত্যই একমাত্র নীরব প্রতিবাদ কারণ সে ধীর, সচেতন ও গভীর।
ইতিহাস প্রমাণ করেছে—সাহিত্য সরাসরি সংস্কৃতি বদলাতে না পারলেও মানুষের চিন্তা বদলাতে সক্ষম। শরৎচন্দ্র নারীর যন্ত্রণাকে লেখায় এনে সমাজকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন। নজরুল বিদ্রোহ লিখে আজ্ঞাবহ সংস্কৃতিকে লজ্জা দিয়েছিলেন। জীবনানন্দ প্রকৃতিকে নতুন চোখে দেখিয়ে আমাদের অনুভবের ভাষা বদলে দিয়েছিলেন। তারা সংস্কৃতিকে বদলাননি সরাসরি তবে মানুষকে বদলাতে বাধ্য করেছিলেন।
আজও সাহিত্য একই ভূমিকা রাখতে পারে। এটি মানুষের ভেতরের বিবেককে জাগিয়ে তুলতে পারে, অগভীর চিন্তা ও উদাসীনতার মধ্যে গভীরতা তৈরি করতে পারে। মানুষের ভেতর থেকে যখন পরিবর্তন আসে, তখনই সংস্কৃতিও পরিবর্তনের পথ খুঁজে পায়।
সাহিত্য নিছক বিলাস নয়। এটি এক প্রকার নীরব অস্ত্র—সংস্কৃতির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা। মানুষের মনকে নাড়াতে না পারলে সমাজ কখনোই তার নৈতিক শক্তি ফিরে পাবে না। তাই এই সময়ের সাহিত্য আরও জরুরি, আরও অস্বস্তিকর এবং আরও প্রয়োজনীয়।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
