February 8, 2026, 5:32 am


আব্দুর রহিম রিপন

Published:
2026-02-07 23:34:56 BdST

জাল ভোট দিতে হাজার হাজার বোরকা ও নেকাব তৈরি করা হচ্ছে: মাহদী আমিনের বিস্ফোরক অভিযোগ


জাল ভোট দিতে হাজার হাজার বোরকা ও নেকাব তৈরি করা হচ্ছে: মাহদী আমিনের বিস্ফোরক অভিযোগ


আবদুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই নির্বাচনে কারচুপির এক অভিনব ও ভয়াবহ কৌশলের অভিযোগ সামনে আনলেন এবি পার্টির (আমার বাংলাদেশ পার্টি) অন্যতম নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও মাহদী আমিন। মাহদী আমিন দাবি করেছেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দিন ব্যাপক হারে জাল ভোট দেওয়ার জন্য গোপনে হাজার হাজার বোরকা ও নেকাব তৈরি করাচ্ছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে যে, সরকারি দলের অনুগত একটি গোষ্ঠী ঢাকার বিভিন্ন দর্জিবাড়িতে এবং কারখানায় হাজার হাজার কালো বোরকা ও নেকাব তৈরির অর্ডার দিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা হলো—নির্বাচনের দিন তাদের পুরুষ ক্যাডাররা বোরকা পরে নারী ভোটার সেজে লাইনে দাঁড়াবে এবং একের পর এক জাল ভোট দেবে।
মাহদী আমিনের এই অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও সাধারণ ভোটাররা। শুধু মাহদী আমিনই নন, গত কয়েক দিনে বোরকা বা নেকাব ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে ভোট দেওয়া নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষক শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অতীতেও বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বোরকা বা নেকাব ব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য আগেই জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে যারা বোরকা বা নেকাব পরে আসবেন, তাদের সম্মান জানানো হবে। তবে ভোটের স্বচ্ছতার স্বার্থে পোলিং অফিসারের সামনে একবারের জন্য হলেও মুখের নেকাব সরাতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কোনো ভোট গ্রহণ করা হবে না। ইসির এই বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও মাঠে এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিরোধী দলগুলো।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারও সম্প্রতি বলেছিলেন, ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের শনাক্তকরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে দেখা গেছে, নেকাবের আড়ালে অপ্রাপ্তবয়স্করা বা পুরুষরা ভোট দিয়ে গেছে। এবার যদি কঠোর চেকিং না থাকে, তবে বোরকা হতে পারে ভোট চুরির বড় হাতিয়ার।
এদিকে রাজধানীর নিউমার্কেট ও মিরপুরের কিছু টেইলার্স ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে কালো বোরকা ও নেকাব তৈরির অর্ডার কিছুটা বেড়েছে। মাহদী আমিনের অভিযোগ, এই বোরকাগুলোই নির্বাচনের দিন অপব্যবহার করা হতে পারে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত নারী পুলিশ বা আনসার নিয়োগের দাবি জানান, যাতে মুখ না দেখে কাউকে ভোট দিতে দেওয়া না হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ছদ্মবেশে ভোট দেওয়া বা ‘নেকাব বাহিনী’র উপস্থিতি ভোটকেন্দ্র দখলের একটি নীরব কৌশল হতে পারে। যদি পুরুষরা বোরকা পরে লাইনে দাঁড়ায়, তবে তা শনাক্ত করা সাধারণ পোলিং এজেন্টের পক্ষে কঠিন হবে। এতে করে সহিংসতা ও সন্দেহের কারণে অনেক প্রকৃত নারী ভোটার হয়তো ভোট দিতেই আসবেন না। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেয়।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.