February 13, 2026, 4:22 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-02-13 13:55:30 BdST

টুকুর থাবায় ফরহাদ তছনছ


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 'ধানের শীষ' প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট।

এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা বিএনপির বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট।

ফলে আহসান হাবিব মাসুদের তুলনায় ৫০ হাজার ৯৯৬ ভোট এবং ফরহাদ ইকবালের তুলনায় ৬১ হাজার ৮৭১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরীফা হক বেসরকারিভাবে এই ফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, টাঙ্গাইল-৫ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৩১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮১ জন। বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪০১ ভোট। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০।

এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন (হাতপাখা) পেয়েছেন ২ হাজার ৬০০ ভোট, জাতীয় পার্টির মো: মোজাম্মেল হক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ৬৩৬ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের একে এম শফিকুল ইসলাম (ডাব) পেয়েছেন ১০৯ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার বীথি (মাথাল) ২২১ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম (ট্রাক) ২৬৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী (একতারা) ১ হাজার ১৮৯ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (তারা) পেয়েছেন ১ হাজার ৯২ ভোট।

এদিকে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, আমার প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আমরা বিজয় অর্জন করতে পেরেছি। এই বিজয় টাঙ্গাইল সদরের আপামর জনগণের বিজয়। আপনাদের শ্রমের মূল্য হয়তো দিতে পারব না, তবে আগামী দিনে ইনশাআল্লাহ যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে পাশে পাবেন।

উল্লেখ্য, এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এসময় তিনি মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডেও থাকতে হয়েছে তাকে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল আওয়ামী লীগের পলাতক একটি গ্রুপের অর্থে নির্বাচনে লড়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বাদ দিয়ে সদরের ছেলে পরিচয় বহন করে মানুষের সাথে যে প্রতারণা করছেন তার জবাব টাঙ্গাইল সদরবাসী ভোটের মাধ্যমে দিয়েছেন। ফরহাদের সমর্থকেরা বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে যেভাবে মানসিক নির্যাতন করেছে তা ভয়াবহ। এই ষড়যন্ত্রের সাথে যারা জড়িত তাদের মুখোশ উন্মোচন হবে খুব শীঘ্রই।

প্রমাণিত হয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল রাজনীতি করেছেন নিজের স্বার্থের জন্য। তিনি দলকে ব্যবহার করেছেন। উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ফরহাদ ইকবাল দলের পরিচয়ে নেতা হয়ে ছিলেন। ফরহাদের উঠে আসার পেছনে টাঙ্গাইল-৫ আসনের ধানের শীষের নবনির্বাচিত এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নেতার অবদানকে ফরহাদ অস্বীকার করে দলের সাথে বেঈমানী করেছেন। বিশ্বাসঘাতক ফরহাদ ইকবাল টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জন্য। ফরহাদ ও তার অনুসারীদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ খুবই আপত্তিজনক ছিলো যা বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাবিয়ে তুলে। ফরহাদ ও তার অনুসারীরা যা করেছে, এর ফল ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে দিয়েছে ভোটাররা।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক যাত্রা শুভ হোক। নানা ষড়যন্ত্র তারেক রহমান তথা বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এমনকি সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-৫ আসনের এমপি হয়েছেন। টাঙ্গাইল সদরের মানুষ আপনার উপর ভরসা রেখেছে। আপনি দেখিয়ে দিয়েছেন পাহাড়সম বাধা পেরিয়ে ভূমিধস বিজয় হয়েছেন।

দুর্নীতিমুক্ত টাঙ্গাইল গড়তে আপনি দায়িত্বশীলদের সবার প্রতি ইস্পাত কঠিন হবেন। আপনার ক‍্যাবিনেট হবে সৎ-নির্লোভ ও ক্যারিশম্যাটিক। অবৈধ অর্থের লোভে মরিয়া নেতাকর্মীদের হাত-পা শুরুতেই বেঁধে দিতে হবে। ভাল কাজের প্রশংসা ও খারাপ কাজ তুলে ধরার অবারিত সুযোগ যেনো গণমাধ‍্যমের থাকে।

‘বাংলাদেশে রাজনীতি লাভজনক ব‍্যবসা’ এই ধারনা যেন মানুষের মন থেকে ধীরে ধীরে মুছে যায়। দলীয় নেতাকর্মীদের যোগ‍্যতা অনুসারে বৈধ ব‍্যবসা ও কাজের সুযোগ করে দিতে হবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.