April 12, 2026, 11:09 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-04-12 18:37:32 BdST

পদপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার ব্যক্তবিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিনে সভাপতি পদপ্রার্থী হারুন কমিশনার


নির্বাচন ও রোজার ঈদের পর থেকেই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাচ্ছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন সবাই। বিভিন্ন সাংগঠনিক অঞ্চলের নেতারা তাদের প্রত্যাশীত পদের জন্য বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন।

নতুন করে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর দলের সর্বস্তরে যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তৃনমূলে চলছে যোগ্য নেতৃত্বের অন্বেষণ। এক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে যার নাম সবচেয়ে বেশী আলোচিত হচ্ছে; তিনি হলেন যুগান্তকারী ৫ আগষ্ট এর গণঅভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধা, তৃণমূলের আস্থার প্রতীক এবং রাজপথের পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ মোঃ হারুনুর রশিদ (কমিশনার হারুন)।

‘কমিশনার হারুন’ হিসেবে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক এই নেতা দীর্ঘদিনের রাজপথের সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। আগামীর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এই মাঠনেতা ইতোমধ্যেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আগামী নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। 

মোঃ হারুনুর রশিদ রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘কমিশনার হারুন’ নামেই সবার কাছে বহুল পরিচিত। তিনি মতিঝিল এলাকার সাবেক নির্বাচিত কমিশনার এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির একনিষ্ঠ কর্মী ও বর্তমানে ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক।

হারুনের রাজনীতির পাঠ তৃণমূল থেকে শুরু হয়েছিলো বলে মাঠের নেতাকর্মীদের সাথে তার আবেগ ও স্পন্দন অত্যন্ত সুগভীর। বিগত ১৭ বছরের দুঃসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং রাজপথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথেই পালন করেছেন।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় অসংখ্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা, জেল-জুলুম-হুলিয়া মাথায় নিয়েই সর্বদা নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কোনও রক্তচক্ষু তাকে শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এমনকি ২০২৪’র ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবেও তাকে রাজপথে সম্মুখসারিতে থেকে ফ্যাসিবাদ পতনের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

দেশনায়ক তারেক রহমানের ভিশন ও তার অঙ্গীকার

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই ঘোষণা করেছিলেন "আই হ্যাভ এ প্ল্যান"। তাঁর এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিলো প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কালক্ষেপন না করে নিজের ঘোষিত ”ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী কার্ডসহ প্রভৃতি নানা যুগান্তকরী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পেলে তারেক রহমানের ঘোষিত আগামীর পরিকল্পনা ও ভিশন বাস্তবায়নে মোঃ হারুনুর রশিদ নিচের ৩টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে দলকে ঢেলে সাজাবেন বলে এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ

ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে বিএনপিকে কেবল শক্তিশালীই নয়, বরং একটি শিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক দল বা ইউনিটে পরিণত করবেন এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।

তারুণ্যের ঐক্য ও সৃজনশীল রাজনীতি

গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক ও সৃজনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করে রাজনীতি ও প্রচারণায় মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোকে একই চেইন অব কমান্ডে সংযোজন করবেন।

সামাজিক ও জনবান্ধব রাজনীতি

জনগণের আস্থা অর্জনে বিএনপিকে শুধু রাজনৈতিক দল হিসেবেই নয়, বরং একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান সাবেক কমিশনার হারুন। তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের যে রূপকল্প ঘোষণা করেছেন সেটি বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এজন্যই মহানগরের কমিটিকে তিনি শক্তিশালী এবং সক্রিয় করে গড়ে তুলবেন।

মোঃ হারুনুর রশিদ বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানেই জনগণের কল্যাণে নিরলস কাজ করা। তিনি দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসেবাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চান। তার পরিকল্পনায় রয়েছে বেকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালু করা।

তার মতে, দেশ গড়ার এই নতুন যাত্রায় অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য এসব বাধা পেরিয়েই সাফল্য অর্জন করতে হবে। তাই বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা এবং রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের হাতেই নিরাপদ।

তিনি মনে করেন, তৃণমূলকে শক্তিশালী না করলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কখনও কার্যকর হয় না। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একান্ত আলাপচারিতায় মোঃ হারুনুর রশিদ এই প্রতিবেদককে বলেন, "দায়িত্ব পেলে আমি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবো। দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই মূহুর্তে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্ব পালনে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।"

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.