May 22, 2026, 10:57 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-05-22 20:59:08 BdST

টাঙ্গাইল সদরের মানুষ আমার বড় শক্তি ও সাহসঃ প্রতিমন্ত্রী টুকু


আমার টাঙ্গাইল সদরের মানুষই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে বড় সাহস। আপনাদের হাত ধরে, আপনাদের ভালোবাসা বুকে নিয়েই এগিয়ে যাবে আমাদের এই প্রিয় জনপদ। তরুণের স্বপ্ন, যুবকের শক্তি আর মুরব্বিদের দোয়া; সবকিছুকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গড়ে তুলবো একটি আধুনিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ টাঙ্গাইল সদর, ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচনের আগে আপনাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে করা অঙ্গীকার হলো আমানত। সেই আমানতের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো।

আজ শুক্রবার টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই কথাগুলো বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

টুকু বলেন, যমুনার ভাঙন ঠেকাতে টাঙ্গাইলে স্থায়ী বেড়িবাঁধের ঘোষণা দিয়েছিলাম নির্বাচনের আগে। আজ আমার প্রিয় নেতা, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অতি দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিলেন।

শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। পরে নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের যমুনা নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই পানিসম্পদ মন্ত্রী সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা যা বলি, তাই করি।নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমি এই এলাকার মানুষের প্রতিটি মুহুর্ত পাশে থাকবো এবং আছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী টুকু। যা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছেন।

পশ্চিম টাঙ্গাইলের যমুনা নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলিত।তাদের জন্যই একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।

জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।টাঙ্গাইলকে সর্বোচ্চ উন্নয়নের পর্যায়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আগামী পাঁচ বছর পর উন্নয়নের তালিকা হলে টাঙ্গাইল সদর এক নম্বরে থাকবে।

মাদক প্রতিরোধ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে যুব সমাজকে সচেতন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।প্রতিমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.