February 9, 2026, 3:56 pm


Shamiur Rahman

Published:
2026-02-09 13:41:46 BdST

বিদ্রোহীদের চাপে বিএনপি: হাতছাড়া হতে পারে বেশ কিছু আসন, শরিকরাও চ্যালেঞ্জের মুখে


বিদ্রোহীদের চাপে বিএনপি: হাতছাড়া হতে পারে বেশ কিছু আসন, শরিকরাও চ্যালেঞ্জের মুখে

আব্দুর রহিম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে বাড়ছে অস্বস্তি ও চাপ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ৭৯টি আসনে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও জনপ্রিয়। এই বিদ্রোহ শুধু ধানের শীষের ভোটব্যাংকই ভাগ করছে না, বরং জোট শরিকদেরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিএনপি হাইকমান্ড দাবি করছে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে না, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন এবং তাদের অনেকেরই নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা পিছু হটেননি। উল্টো স্থানীয় কমিটিগুলো দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।


ঢাকায় শক্তিশালী বিদ্রোহীরা
রাজধানীর ২০টি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
ঢাকা-৭: যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। ৩৬৫টি মামলার আসামি এই নেতার এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
ঢাকা-১৪: বিএনপির সাবেক এমপি এসএ খালেকের ছেলে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু)। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম এবং জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
ঢাকা-১২: জোট শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী সাইফুল আলম নীরব।


ঢাকার বাইরে হেভিওয়েট স্বতন্ত্ররা
ঢাকার বাইরেও একাধিক আসনে বিএনপির ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহীরা।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): প্রকৌশলী ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন রাজিবের মতো হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিএনপির দলীয় প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম-৪: চিলমারীর সাবেক চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান শাহীন বালতি প্রতীকে ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারেন।
রাজবাড়ী-২: সাবেক এমপি নাসিরুল হক সাবু নিজস্ব ভোটব্যাংক নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): ‘কৃষকের ছেলে’ খ্যাত লেয়াকত আলী উপকূলীয় এই আসনে বিএনপি-জামায়াতের ভোটে বড় ভাগ বসাবেন।
সুনামগঞ্জ-৪: হাসনরাজার প্রপৌত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন ধানের শীষের প্রার্থীর চেয়েও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
বাগেরহাট ও টাঙ্গাইল: বাগেরহাটের এমএএইচ সেলিম এবং টাঙ্গাইল-৩ আসনে লুৎফর রহমান খান আজাদ দলের বড় অংশের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।


শরিক দলগুলোর কঠিন পরীক্ষা
বিএনপি তাদের জোট শরিকদের যেসব আসন ছেড়ে দিয়েছিল, সেখানেও হানা দিয়েছে বিদ্রোহীরা।
পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির হাসান মামুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
নড়াইল-২: এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ধানের শীষ পেলেও স্থানীয় বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, “কিছু আসনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকলেও তা মিটে যাবে। জনগণ ধানের শীষ দেখেই ভোট দেবে।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৩০-৩৫টি আসনে এই বিদ্রোহীরাই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.