সামিউর রহমান লিপু
Published:2026-02-07 09:46:23 BdST
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ঢাকা-১১ এলাকাভিত্তিক সামাজিক সোসাইটির মাধ্যমে উন্নয়ন ও মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল করবো: ড. এম এ কাইয়ুম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা-১১ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই আসনের প্রার্থীরা ও তাঁদের নেতা-কর্মীরা।
উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন সকল প্রার্থী। ভোটারদের কাছ থেকে নানা সমস্যা ও সংকটের কথা শুনছেন এবং সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিচ্ছেন সব প্রার্থীই।
ঢাকা-১১ আসনে এবারের নির্বাচনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার দিক থেকে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম। তার নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে পুরো আসনজুড়ে চলছে জমজমাট রাজনৈতিক তৎপরতা ও আড্ডা।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১১ আসনের পূর্ব বাড্ডায় আলিনগর সোসাইটির উদ্যোগে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের এক বৃহৎ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শতশত স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, ঢাকা-১১ আসনের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গাকে এলাকা ভিত্তিক সামাজিক সোসাইটির আওতায় আনা হবে। এসব সামাজিক সোসাইটির মাধ্যমেই এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে গড়ে তোলা হবে শক্ত সামাজিক প্রতিরোধ।
তিনি বলেন, “ঢাকা-১১ আসনে আর কোনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস কিংবা মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এসব অপকর্মে জড়াতে চায়, তাহলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করা হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা একের পর এক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও নীতিগতভাবে দল থেকে কেউ সরে যাননি।
তিনি বলেন, “অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি, কিন্তু জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় অল্প বয়সেই আমি কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়েছিলাম। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর থাকাকালীন সব সময় এলাকার উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করেছি।"
তিনি বলেন, “লিংক রোড নির্মাণ, এলাকার রাস্তা উন্নয়ন, পানি ও গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে আমি সরাসরি যুক্ত ছিলাম। আমি আপনাদের সন্তান—আগেও আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো।"
পথসভায় তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১১ আসনের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
প্রার্থিতা সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, ইদানীং আমার এক প্রতিপক্ষ সকাল সকাল হাইকোর্টে ছুটে যান আমার প্রার্থিতা স্থগিত করতে। একইদিনে এই পার্টির আরও কয়েকজন প্রার্থী তাদের প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ এনেছেন। আপনারা একটু ভেবে দেখবেন—যেসব দলের জনবল আছে, জনসমর্থন আছে তারা কিন্তু এখন নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত; এই শেষ মুহূর্তে এসে অন্যদের কোর্টে নিয়ে হয়রানি করে তারা সময় নষ্ট করছে না। এটি বিগত সরকারের ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দেয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তারই একটি ধারাবাহিকতা ।
তিনি আরও বলেন, এখন হয়তো আপনাদের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে, আমাকে নিয়ে এই অবান্তর “ভানুয়াতুর” গল্প কাদের ক্ষমতায় নেয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে। এই হাস্যকর রিট খারিজ করে দিয়েছেন মহামান্য আদালত। এসব অপচেষ্টার পরেও আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, জনগণের পাশেই আছি।
নির্বাচনে কারচুপি'র প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম বলেন, “ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে প্রশাসন কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।”
এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারের দোসরেরা প্রশাসনের সব জায়গায় আছে। সেই আশঙ্কা থেকেই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হলে আমি জনগণকে সাথে নিয়েই এর প্রতিরোধ করব। আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে সতর্ক থাকবে এবং ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি এলাকাবাসী ও সারাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদেরসহ সারাদেশের মা-বাবা ও ভোটারদের কাছে আমার আবেদন—ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে এবং বিএনপির সকল প্রার্থীকে বিজয়ী করুন। এতে দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে আমরা একধাপ এগিয়ে যাব।”
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এ জি এম শামসুল হক, বাড্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেন, বাড্ডা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেম্বার এম এ বাশার, সিরাজ মিয়া স্কুল নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রধান কাজী আনোয়ার হোসেন মিন্টু, বাড্ডা থানা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ইমাজ উদ্দিন ইমান, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দীপক কুমার টাইগার, আলিনগর সোসাইটির সভাপতি মোবারক হোসেন ফকির, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন টিটুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
পথসভা শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড. এম এ কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় থাকায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। সামাজিক সোসাইটির মাধ্যমে উন্নয়ন ও অপরাধ দমনের ঘোষণায় তারা আশাবাদী বলে জানান।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১১ আসনে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) কাজী মো. শহীদুল্লাহ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মো. জাকির হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. আরিফুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি।
তবে স্থানীয় ভোটাররা এই আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রধানত চারজনকেই চেনেন। কেউ কেউ মনে করছেন, কাইয়ূম ও নাহিদের মধ্যে লড়াই হবে। আবার কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী না থাকায় এই দুই দলের একটি অংশের ভোট গণফোরামের মো: আবদুল কাদের পেতে পারেন। এছাড়া হাতপাখার ফজলে বারী মাসউদও ভোটে ভাগ বসাবেন। তার প্রভাব পড়তে পারে বিএনপি ও এনসিপির ভোটে।
ফজলে বারী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। আফতাবনগর, রামপুরা এলাকায় তার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বাড্ডা থানা এলাকা, রামপুরা থানার টিভি সেন্টার, আফতাবনগর আবাসিক এলাকা, বনশ্রীর একাংশ, মহানগর প্রজেক্ট, মালিবাগ-চৌধুরীপাড়া; ভাটারা থানার নতুন বাজার, বারিধারা সংলগ্ন এলাকা, নুরের চালা ও ছোলমাইদ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসন।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
