April 2, 2026, 3:56 am


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-04-02 02:07:03 BdST

এনবিআর চেয়ারম্যানবীমা খাতে অব্যবস্থাপনা ও তদবিরের সংস্কৃতি বিরাজমান


বীমা খাতে পেশাদারিত্বের অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই কথা বলেন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মোটর বীমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা এখন চরমে।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনো অনেকেই তদবির করছেন।

বীমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে আবদুর রহমান খান বলেন, বীমা কোম্পানি আছে, অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচুয়ারি’ (বীমা গাণনিক) নেই— পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুন, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু মেয়াদপূর্তি শেষে টাকা পায় না।

তিনি আরও বলেন, বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত না হলে মানুষের আস্থা ফিরবে না বলে সতর্ক করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে মানুষ মনে করবে সরকার জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করতে চাইছে। এই খাতে সকল অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.