শাহীন আবদুল বারী
Published:2026-04-13 11:10:17 BdST
আগামীকাল টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী "কৃষক কার্ড" বিতরণ করবেন
আগামীকাল ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান টাঙ্গাইলে কৃষি কার্ড উদ্বোধন করবেন।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে সাজ সাজ রব ও উৎসবের আমেজ বইছে। চেয়ারপারসনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি দেশে তাঁর দ্বিতীয় জেলা সফর এবং টাঙ্গাইলে প্রথম আগমন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকে ঘিরে টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলাগুলোতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকদের মাঝে ঈদ আমেজ শুরু হয়েছে। কারণ স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কোন সরকার কৃষকদের জন্য "কৃষি কার্ড" এর ব্যবস্থা করেনি।
টাঙ্গাইল সদরের নন্দিত এমপি, সরকারের মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আপ্রাণ চেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল টাঙ্গাইলে কৃষকদের মাঝে "কৃষি কার্ড" বিতরণ ও উদ্বোধন করবেন। এই উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সকল আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেখানে তিনি এক বিশাল কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেথা দিয়েছে। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে টাঙ্গাইল সহ আশপাশের জেলার মানুষ । শহরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্টেডিয়াম মাঠে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরি এই প্রতিবেদককে জানান, টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে শহর বাইপাস পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার ফোরলেন সড়কের সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও পুরাতন বাসটার্মিনাল থেকে সন্তোষ মাওলানা ভাসানীর মাজার পর্যন্ত সংস্কার করা হয়েছে। এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে শহরের রাস্তা-ঘাট গুলোর চেহারা পাল্টে গেছে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের জেলা সদর এলাকা, পার্ক বাজার ও স্টেডিয়াম এলাকার সড়ক গুলো মেরামত ও চাকচিক্য সম্পন্ন হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের সাথে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের দফায় দফায় বৈফক চলছে। সরেজমিনে দেখে এটা স্পষ্ট যে নিরাপত্তার চাদরে একপ্রকার ঢেকে দেয়া হচ্ছে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, সফর সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি। নবান্নের ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষি কার্ড বা কৃষক কার্ড হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ উদ্যোগ। যার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় এনে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সরাসরি প্রদান করা হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ, কৃষি উপকরণ, সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট এক হাজার ৪৭০ জন কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। এর মধ্যে একশ’ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবেন। আর ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রথানমন্ত্রী সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দিবেন।
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই প্রতিবেদককে বলেন, সদরের মানুষের গর্ব মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,এমপি। তিনি আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে আসবেন। টাঙ্গাইল সদরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আমাদের বিশ্বাস তিনি টাঙ্গাইলকে উন্নয়নের মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন। নিরহংকারী এই নেতার কাছে সবাই সমানভাবে মূল্যায়িত হচ্ছেন। কাউকে তিনি খালি হাতে ফেরত দেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকার আমলে টাঙ্গাইলে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মাত্র দুই মাসে অসংখ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিশোর গ্যাং নির্মুল সহ বিভিন্ন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। বেকারত্ব ঘোচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার জন্য সকল ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান "টাঙ্গাইল সিটি কর্পোরেশন" এর ঘোষণা করবেন বলে সর্বস্তরের মানুষের দাবি।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
