May 28, 2026, 7:59 am


সামিউর রহমান

Published:
2026-05-28 06:49:57 BdST

২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিষুর উদ্যোগে পশুর বর্জ্য ব্যাগ বন্টনরাজধানীর মালিবাগে ড. এম এ কাইয়ুমের নির্দেশে বর্জ্য অপসারণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুুুষ্ঠিত


আজ ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন নগরবাসীকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে।

এছাড়াও, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়, কর্মীবান্ধব এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত রাজনীতিবিদদের উদ্যোগেও সামাজিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত “ক্লীন সিটি-গ্রীন সিটি” পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋন বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম ঈদুল আজহার দিন বাড্ডা, ভাটারা ও গুলশান এলাকায় দ্রুততম সময়ে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বন্টন এবং প্রচারণা করার নির্দেশ দেন।

বুধবার (২৭ মে) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্নতায় সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও পশুর বর্জ্য রাখার ব্যাগ বন্টনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ড. এম এ কাইয়ুমের নির্দেশনা মোতাবেক রামপুরা থানার অধীনস্থ ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রুবেল হক বিষু ব্যাপারী এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল মেছের, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও উন্নয়নকর্মী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (ড্যানী), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: শিপন এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও সিজন ফ্যাশনওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো: আবদুল আউয়াল।

সরেজমিনে মালিবাগ বাজার রোড, চৌধুরীপাড়া, আবুল হোটেল, নয়াটোলা এবং পদ্মা সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, ২৩ নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রুবেল হক বিষু ব্যাপারীর নেতৃত্বে রামপুরা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য কাজল, মালিবাগ বাজার ইউনিট বিএনপির সভাপতি তৌহিদ মনির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো: ফয়সাল, সমাজকর্মী ফয়সাল খান, মো: শফিকুল ইসলাম শফিক, মামুন, সোহাগ, রাকীব সহ মালিবাগ বাজার ইউনিট বিএনপির নেতাকর্মীগন এবং  এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোরবানির পশুর বর্জ্য সংরক্ষণ, নির্ধারিত স্থানে রাখা ও দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিষু ব্যাপারীর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে উল্লেখিত এলাকাগুলোর অলিগলিতে গিয়ে প্রত্যেক কোরবানিদাতাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে সরবরাহকৃত বায়ো-ডিগ্রেডেবল ব্যাগ প্রদান করেন।

কর্মসূচি পালনকালে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে', দৈনিক বর্তমান দিন, দ্য ইনভেষ্টর, কালবেলা, দৈনিক ইনকিলাব, বাংলাদেশ যুগান্তর, দ্য বিডি রিপোর্ট সহ একাধিক গনমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রুবেল হক বিষু ব্যাপারী।

তিনি বলেন, "আজ আমরা বর্জ্য রাখার ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার দিয়েছি। ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যার পর থেকে আমরা এলাকার প্রতিটি অলিগলিতে বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবো। এসময় গাড়ির মাধ্যমে এলাকার সড়কগুলোতে কীটনাশকযুক্ত পানি ছিটানো হবে। জীবানুনাশক পানি দেয়ার পর পশু কোরবানি দেয়ার স্থানগুলো ও সকল ড্রেনে পর্যাপ্ত পরিমানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হবে।"

বিষু আরও বলেন, "গত ২১শে মে থেকে ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির পক্ষ থেকে আমি এবং আমার রাজনৈতিক সহকর্মীগন স্ব-উদ্যোগে পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক জনসংযোগ করেছি। এসময় এলাকাবাসীকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে কোরবানীকৃত পশুর বর্জ্য ফেলতে, কোরবানির পর চারপাশ পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে রাখতে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কাজে সাহায্য করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছি।"

বর্জ্য অপসারণে সচেতনতা ও করণীয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর সব বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। এক্ষেত্রে, পশুর বর্জ্য অপসারণে সচেতনতা ও করণীয়সমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো।

পশুর উচ্ছিষ্টাংশ, নাড়িভুঁড়ি ও রক্ত যেখানে-সেখানে না ফেলে সিটি কর্পোরেশন থেকে সরবরাহকৃত বর্জ্য ব্যাগে বা বস্তায় ভরুন।

ব্যাগ বা বস্তায় ভরা বর্জ্য সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশিত নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে ফেলুন, যাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত অপসারণ করতে পারেন।

পশুর রক্ত বা উচ্ছিষ্টাংশ কোনো অবস্থাতেই ড্রেন, সুয়ারেজ লাইন বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।

কোরবানির স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং জীবাণুনাশক হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার বা স্যাভলন ব্যবহার করুন।

এলাকাবাসীর বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে অনেককেই এই প্রতিবেদকের কাছে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দিতে দেখা গেলেও বিষু ব্যাপারীর ব্যাপারে তারা সমস্বরেই উচ্ছাস প্রকাশ করেন।

মালিবাগ বাজার রোডের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এই প্রতিবেদককে বলেন, ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকার ন্যায় মালিবাগ বাজার এবং চৌধুরীপাড়ায় বিএনপি ও এর অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ উঠে। তবে বিষু ব্যাপারী এসব অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বরাবরই বিরত ছিলেন। তিনি এলাকার যে কোন সমস্যা সমাধানে কিংবা সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তার সৃজনশীল কর্মকান্ডে এলাকাবাসী যারপরনাই মুগ্ধ। ফলে এলাকার ব্যবসায়ী সমাজ এবং বাসিন্দাদের কাছে বিষুর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

তারা আরও বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এই এলাকার বিএনপি, জামাত ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ যেখানে হাটের মাসোহারা আদায়ে ব্যস্ত সেখানে বিষু ব্যাপারী এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাপক জনসংযোগ করছেন, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লাগাতার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এমন মানবিক গুলাবলী ও সৃজনশীল কর্মকান্ডের ফলে এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিষু ব্যাপারী।

ড. এম এ কাইয়ুমের শুভেচ্ছাবার্তা

এদিকে, 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে বিষু নিজের মুঠোফোন থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে ড. এম এ কাইয়ুমের প্রেরিত বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তাটি উপস্থিত সাংবাদিকদের পড়ে শোনান।

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া উক্ত বার্তায় ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি সবসময় রাজনীতি করেছি মানুষের সেবা করার জন্য। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে আমি আপনাদের সেবা করার লক্ষ্যেই প্রার্থী হয়েছিলাম। নানাবিধ চক্রান্ত ও ভোটে কারচুপির কারণে আমি নির্বাচনে জয়ী হতে পারিনি ঠিকই কিন্তু তাই বলে আপনাদের সেবা করবো না, সেটি কখনোই ভাববেন না। যে কোন সমস্যায়, উৎসব-পার্বণে আমি সর্বদাই আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোরবানির পশুর বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানে ফেলার জন্য সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। একইসঙ্গে যত্রতত্র বর্জ্য ফেললে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগবালাই ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তাই, দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সবাইকে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির বর্জ্য ফেলতে আহ্বান জানাচ্ছি। একটি দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, এই কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২১ মে থেকে টানা ৬ দিনব্যাপী ২৩ নং ওয়ার্ডের মালিবাগ বাজার, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, আবুল হোটেল, পদ্মা সিনেমা হল সংলগ্ন আবাসিক এলাকা, পূর্ব হাজীপাড়া সহ অন্যান্য এলাকার প্রতিটি অলিগলিতে ঈদের দিন কোরবানিদাতাদের করণীয় নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেন ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিষু।

ডিএনসিসির প্রস্তুতি

ঈদের দিন বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, উৎসব চলাকালীন নির্বিঘ্নে বর্জ্য নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, প্রকৌশল এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন থেকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করতে প্রায় ৬,৫০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ৪,৫০০ বর্জ্য সংগ্রাহক এবং প্রায় ৫,৫০০ স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করবেন। স্বেচ্ছাসেবকরা ডিএনসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করবেন এবং কোথাও কোন সমস্যা হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

তিনি আরও বলেন, বর্জ্য নিষ্কাশন কার্যক্রমে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার পলিথিন ব্যাগ বিতরণ করেছে। এছাড়া, পশু জবাইয়ের পর জীবাণুমুক্তকরণের জন্য ৩,৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, বর্জ্য অপসারণ অভিযানে ট্রাক, ডাম্পার, পেলোডার এবং ওয়াটার ট্যাঙ্কারসহ মোট ৭৫২টি যানবাহন ও ভারী সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ৪০৫টি ভাড়া করা যানবাহন, ২৬১টি ডিএনসিসি-র নিজস্ব এবং ৮৬টি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত যানবাহন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ঈদুল আজহায় ডিএনসিসি ২০,৮৮৯ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছিল, যার মধ্যে শুধু ঈদের দিনই ছিল ১০,৬১৬ টন। এই বছরও একই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.