সড়ক-রেলখাতে ব্যাপক বরাদ্দ, বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন যে দেশের সড়ক ও রেল খাতে ব্যাপক বরাদ্দ দিয়ে নতুন নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০৬টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে দেশে ৩ হাজার কিলোমিটার আধুনিক ও নিরাপদ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, পর্যটন এবং সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে হাবিবুর রশীদ বলেন, ঢাকার অভ্যন্তরে থাকা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থাকে দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকার পাঁচ লাখ দক্ষ চালক তৈরির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে।
রেলপথ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে প্রায় ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেনে ইন্টারনেট সেবা চালু, প্রতিটি রেলস্টেশনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংযোজনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপরেখা।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৯-এর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকায় এখনও বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর নির্দেশনায় মুগদা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
Shamiur Rahman
