বিশেষ প্রতিবেদক
Published:2026-05-22 05:06:38 BdST
!! সিনিয়র স্কেল ছাড়াই পদোন্নতির নীলনকশা !!গনপূর্তে বিপ্লব সিন্ডিকেটের রমরমা বদলী বানিজ্যের পর এবার পদোন্নতি ঘিরে বিতর্ক
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরে আবারও সামনে এসেছে পদোন্নতি বাণিজ্য, বিধি লঙ্ঘন, আদালতের চলমান মামলা গোপন এবং প্রশাসনিক অপতৎপরতার বিস্ফোরক অভিযোগ। বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের ই/এম অংশের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা তালিকা ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি ঘিরে এখন পুরো গণপূর্ত প্রশাসনজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মোহাম্মদ সারওয়ার জাহান ওরফে “বিপ্লব” সরকারি চাকরি বিধি, উচ্চ আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে বিতর্কিত ও অযোগ্য কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ৫ম গ্রেডের ঊর্ধ্বতন পদে পদোন্নতির পথ করে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আর এর পেছনে কাজ করছে কোটি টাকার ঘুষ ও আওয়ামী আমলের শক্তিশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে।
মন্ত্রণালয়ের স্মারকেই প্রকাশ পেল বিভক্ত প্রশাসন
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে জারি করা স্মারক নং-২৫.০০.০০০০.০০০.১৩০.১৯.০০১৭.১৮(অংশ-১)-৩৮৯, তারিখ: ১০ মে ২০২৬-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের ই/এম অংশের ২৭, ২৮ ও ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির দাবিতে আবেদন করেন।
পরবর্তীতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতামতের বিপক্ষে ও পক্ষে পৃথক আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ, একই জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে গণপূর্তের ভেতরেই তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব, বিভক্তি ও অনাস্থা।
মন্ত্রণালয়ের ওই স্মারকে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর “সুস্পষ্ট মতামত” চাওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে প্রেরিত মতামতে প্রকৃত তথ্য আড়াল করে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করা হয়।
তথ্যবিভ্রাট: মামলা ‘খারিজ’ না চলমান?
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখা-১ থেকে ০৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক নং-২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-৩৫২-এ দাবি করা হয়, ১৭টি পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলাটি ২০১৫ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক খারিজ করা হয় এবং পরবর্তীতে সেটি পুনরুজ্জীবনের আবেদনও ২০২৪ সালের ১৭ই ডিসেম্বর খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এর বিপরীতে ২৭, ২৮ ও ৩০তম বিসিএস কর্মকর্তারা সচিব বরাবর দেওয়া আবেদনে দাবি করেন, মহামান্য আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন নং ৪৩৪০/২০২৪ এখনও চলমান রয়েছে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, মহামান্য আদালত তার পর্যবেক্ষণে "রিজেক্টেড ফর নট প্রেস" মানে 'মামলা খারিজ নয়; বরং আবেদনকারী নতুনভাবে আবেদন করার সুযোগ রেখে আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।'
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা চলমান মামলাকে “খারিজ” দেখিয়ে মন্ত্রণালয়কে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে বিতর্কিত কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতি সহজতর হয়।
সিনিয়র স্কেল ছাড়াই ৫ম গ্রেডের উপরে পদোন্নতি কোন আইনে?
সম্প্রতি, গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মকর্তাদের পদোন্নতিকে ঘিরে সূত্রপাত হওয়া এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭।
ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই বিধিমালার ৮ম ধারা অনুযায়ী সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে ৫ম গ্রেডের ঊর্ধ্বতন পদে পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ নেই। অথচ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি প্রভাবশালী চক্র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তাকে বিশেষ সুবিধায় পদোন্নতির ব্যবস্থা করছে।
আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেহেতু কর্মকর্তাদের একই নিয়োগ বিধিমালার আওতায় ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, সেহেতু একই বিধিমালার পদোন্নতি সংক্রান্ত শর্তও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতামতে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থগিতাদেশ চলাকালে নিয়োগে বৈধতার উৎস কি?
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে। আবেদনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন—যখন আদালতের আদেশে পদ সংরক্ষিত ছিল, তখন কীভাবে নিয়োগ ও যোগদানের তারিখ ০৪/০৯/২০১২, ১৮/০৯/২০১২ ও ১৯/০৯/২০১২ দেখিয়ে জ্যেষ্ঠতা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো?
এই বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঠানো মতামতে কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। বেতন তুলেছেন, দায়িত্ব পালন করেননি ! চাঞ্চল্যকর এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ সামনে এসেছে। সেটি হলো, সরকারি দায়িত্ব পালন না করেও বকেয়া বেতন উত্তোলন।
আবেদনকারীদের দাবি, যাদের নিয়োগ ও পদোন্নতির বৈধতা এখনও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন, তাদের আরও উচ্চতর পদে পদোন্নতির প্রস্তাব প্রশাসনিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।
গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারওয়ার জাহানের আমলনামা
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান তাঁর কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন, প্রকিউরমেন্ট ইউনিট এবং রিজার্ভ জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অতীতে তিনি দিনাজপুর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে তিনি সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের তদারকি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দাপ্তরিক কাজের সমন্বয় ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বিগত বছরগুলোতেও বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমুহ নিম্নে তুলে ধরা হলো।
‘ঘুষের বিনিময়ে মতামত’
গণপূর্তের ভেতরে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম মোহাম্মদ সারওয়ার জাহান ওরফে বিপ্লব। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে তিনি বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পক্ষে মতামত দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠাচ্ছেন এবং অবৈধ পদোন্নতির নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা—মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও প্রশাসন শাখার কিছু সদস্য—এসব অনিয়মের বিষয়ে নীরব থেকে কাপ্পর্যত বিতর্কিত এই পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
অতীতেও দুর্নীতির অভিযোগ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মোহাম্মদ সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। সুত্র মতে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ২০২৫ সালের ২৯শে জুন জারিকৃত এক অফিস আদেশ নং- ২৫.০০.০০০০.০৩৭.০১৮.২৭.০০০৩.২৫-২৩৯ অনুযায়ী, গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে কাশিমপুর কারাগার-২ প্রকল্পের এইচটি কেবল ফল্ট লোকেটর মেশিন সরবরাহ সংক্রান্ত ১০ লাখ টাকার পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়ন করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণিত হয়।
তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেলেও “চাকরি জীবনের প্রথম অপরাধ” বিবেচনায় তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন উঠেছে—যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, তিনিই কীভাবে আবার জ্যেষ্ঠতা তালিকা ও পদোন্নতির মতো স্পর্শকাতর প্রশাসনিক বিষয়ে মূল ভূমিকা পালন করছেন?
বদলী বানিজ্যের অভিযোগ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক বদলী আদেশ স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে মার্চ ২০২৬ সালে জারিকৃত অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলী আদেশ নিয়মবহির্ভূত বলে চিহ্নিত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
এসব বদলীর ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে একই স্টেশনে দুই বছরের কম সময় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বদলী করা হয়েছে, যা সাধারণত নিয়মবিরুদ্ধ। লোভনীয় পোস্টিংয়ের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, নিয়মবহির্ভূত বদলী অনুমোদন এবং কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন একই স্টেশনে থাকা কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে এসব বদলী স্থগিত করে এবং নিয়মবহির্ভূত আদেশগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের নির্দেশে মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে বড় আকারের বদলী বা পদোন্নতির ফাইল অগ্রসর না করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে জামানতের টাকা অবৈধভাবে ক্যাশ করার অভিযোগ আগেই প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে কোনো শাস্তি ছাড়াই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করে এই অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের মতে, এই অব্যাহতি প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন
সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্যের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর/পরিবারের নামে একটি বাড়ি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে ‘মাফিয়া চক্র’ ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন। দুদক ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকৌশলীর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং সারোয়ার জাহানসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সারোয়ার জাহান বদলীকে একটি বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় পরিণত করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। লোভনীয় পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন, নিয়মবহির্ভূত বদলী অনুমোদন এবং কিছু কর্মকর্তাকে হয়রানির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। যাদের বদলী স্থগিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একই স্টেশনে দুই বছরের কম সময় কর্মরত কয়েকজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীর নাম রয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এসব অনিয়মের কারণে সামগ্রিক বদলী প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে এবং নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশাসনে ‘ফ্যাসিবাদী নেটওয়ার্ক’ এখনও সক্রিয়
গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে। সেই সিন্ডিকেটই এখনও পদোন্নতি, টেন্ডার, পোস্টিং ও জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তন হলেও প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এখনো বহাল তবিয়তে থেকে পুরনো কায়দায় প্রভাব বিস্তার করছে।
শ্যেন দৃষ্টি মন্ত্রণালয়ে
গণপূর্ত অধিদপ্তরে পদোন্নতিকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের ফলে পুরো ঘটনায় এখন বড় একটি প্রশ্ন সামনে চলে এসেচ— গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কি সত্যিই নিরপেক্ষ তদন্ত করবে, নাকি বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হবে?
চলমান মামলা, সরকারি চাকরির বিধিমালা ভঙ্গ, আদালতের আদেশ এবং দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করে যদি পদোন্নতি দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক বৈষম্যই নয়; বরং রাষ্ট্রীয় চাকরি ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ কর্মকর্তাদের আস্থা ধ্বংস করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপূর্তের অভ্যন্তরে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “সিনিয়র স্কেল ছাড়া, মামলা চলমান থাকা অবস্থায়, দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েও কার স্বার্থে এত তড়িঘড়ি পদোন্নতির আয়োজন?”
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
