Siyam Hoque

Published:
2020-03-31 18:34:44 BdST

রাজপথ নিরব, অলিগলি সরব


রাতারাতি বদলে গেছে সব। এক সময়ের ব্যস্ত রাজধানীর শ্যামলী-গাবতলী সড়ক এখন শুনশান। মাঝে মধ্যে দুই একটা গাড়ি চলছে। রাজপথের পাশের সব মার্কেট বন্ধ। কল্যাণপুরে শুধু কয়েকটি ফার্মেসি দোকান খোলা। তাতেও ক্রেতা নেই। 

হরতালে, এমনকি ঈদের ছুটিতেও এত ফাঁকা হয় না ঢাকা। তবে মূল সড়ক এমন নিরব থাকলেও বিভিন্ন গলির ভেতরে সব দোকানপাট খোলা। শুধু দোকানপাট নয় গলিতে তরকারি, মাছসহ নানা পণ্যের পসরাও বসেছে। অলি-গলিতে এখনো মানুষের আড্ডা বন্ধ হয়নি। চারদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেও অনেক গলিতে ভিড় লক্ষ করা গেছে।

মিরপুরের দারুসসালাম এলাকায় মূল সড়কের ভেতরে অলিগলিতে মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো সতর্কতা দেখা গেল না এখানে। গলির চায়ের দোকানেও বেশ জটলা। সেই জটলাতেও আলোচনার বিষয় করোনা। কিন্তু আলোচনা যারা করছেন তারা দাঁড়িয়ে আছেন গা ঘেঁষে। অধিকাংশ লোকের মুখেই মাস্ক নেই। থুতু ফেলছেন রাস্তায়। সন্ধ্যার পর চা-দোকানে যেমন আড্ডা চলছে আবার নারীরা গলির পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে জটলা বেধে গল্প করছেন। দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা ঘর থেকে বের হওয়ার কথা যেন তারা জানেনই না।

শুধু দারুসসালাম এলাকার এই গলিই নয়, রাজধানীর অনেকগুলো দোকানপাটে আড্ডা বেশ জমজমাট। সরু গলিতে মানুষ জটলা বেঁধে আড্ডা দিচ্ছেন। চা দোকানে আড্ডারত কয়েকজন যুবক বলেন, পাড়ার দোকানে চা না খেলে মন ভরে না। এ বয়সে কতক্ষণ ঘরে বসে থাকা যায়। তাই মাঝে মাঝে একটু বের হতে হয়। প্রশান্তির জন্য দোকানে বসে কিছুক্ষণ আড্ডা দিচ্ছি।

শুধু যুবক নয় অনেক বয়স্ক লোককেও দারুস সালাম এলাকার গলির চা দোকানের সামনে আড্ডা দিতে দেখা গেল। একজন জানালেন, ঘরে বসে-বসে গায়ে বেজায় ব্যথা, ভাবলেন একটু পায়চারি করে আসি। 

কল্যাণপুরের একটি গলিতে চা দোকানের সামনে রিকাশা রেখে বেশ কয়েকজন চালক আড্ডা দিচ্ছেন। তাদের আলোচনা থেকে নানা আশঙ্কার কথা ভেসে এলো। ষাটোর্ধ এক রিকাশাচালক বলতে লাগলেন, সবাই শুধু করোনা করোনা নিয়ে চিৎকার করছে। হাত ধোয়ার কথা বলছে। কিন্তু হাত ধুয়ে খাবো কী? শহরে সব বন্ধ, রোজগার নেই। সব বন্ধ হলেও বড় লোকের সমস্যা নেই। বড়লোক সব কিনে বাসা ভর্তি করে রেখেছ। কিন্তু আমরাতো আর চলতে পারছি না।

পাশ থেকে আরেক রিকশা চলক বলে উঠলেন, এভাবে চলতে থাকলে করোনা নয়, না খেয়ে মরে যাবো। পেটে খাবার না থাকলে হাত ধুয়ে কী করবো? মুখে হাত দেওয়ার দরকার হলেই তো হাত ধুবো। মুখে খাবার তুলতে না পারলে হাত ধুয়ে কী হবে?

জরুরি প্রয়োজনে বাইরে আসা দারুস সালামের বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, আশপাশের এলাকার অলিগলিতে সব দোকান খোলা। এমনকি কমসেটিক্স ও সেলাইয়ের দোকানও খোলা। চা-পানের দোকানতো বেশ জমজমাট। যুবকেরা সেখানেই আড্ডা দিচ্ছে। পাড়ার ভেতরে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা