আব্দুর রহিম রিপন
Published:2026-02-05 17:32:59 BdST
গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণনির্বাচন বানচালে ওপার বাংলার ‘নীলনকশা’, টার্গেটে জুলাই বিপ্লবের নেতারা
আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশকে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী ও বহুস্তরীয় নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছে একটি কুচক্রী মহল।একাধিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্র মতে, এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন বানচাল করা, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত উসকে দেওয়া এবং পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত করে তোলা।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে যারা
গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতারা বর্তমানে ভারত ও কলকাতার বিভিন্ন ‘সেফ হাউসে’ অবস্থান করে এই বিশৃঙ্খলার রিমোট কন্ট্রোল নাড়ছেন। এদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পলাতক একদল সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। যারা দিল্লিকেন্দ্রিক একটি ‘অপশক্তি জোট’ গঠন করে দেশবিরোধী এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিএনপি-জামায়াতকে মুখোমুখি করার ছক
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে কৃত্রিম সংঘাত সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে এবং অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মিছিলে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে রক্তক্ষয়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে সারা দেশের ৮৭টি স্পর্শকাতর আসনে এই নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টার্গেটে জুলাই বিপ্লবের আইকনরা
সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম ও নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ তরুণ নেতৃত্বের ওপর ‘টার্গেট কিলিং’-এর পরিকল্পনা সাজিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণ নেতাদের ক্ষতি করে জুলাই বিপ্লবের অর্জনকে ধূলিসাৎ করা এবং এর দায়ভার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
মৌলবাদ ও জঙ্গি কার্ড ব্যবহারের অপচেষ্টা
তথ্য মিলেছে যে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’–এর মদতে গড়ে তোলা জেএমবির ১০৩ জন পলাতক সদস্যকে নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী শাসনামলে প্রশিক্ষিত উগ্রবাদী তরুণদের ব্যবহার করে বর্তমান সরকারকে ‘ধর্মবিরোধী’ হিসেবে প্রচার এবং বড় ধরনের বোমা হামলার ছক আঁকা হয়েছে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এই প্রক্রিয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে
সীমান্তে রেড অ্যালার্ট ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
ভারতের মাটি ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত ঘাতক ও বিস্ফোরক বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কায় যশোর, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্তে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সরকার এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির প্রায় নয় লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে এক লাখ সেনা সদস্য সরাসরি মাঠে থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।
প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার যুদ্ধ
যড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইউটিউব, টেলিগ্রাম ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের ভুয়া অডিও-ভিডিও তৈরি করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা রুখতে এনটিএমসি এবং সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. ওমর ফারুকের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে এই বিদেশি নীলনকশা ব্যর্থ করে দিতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে যেকোনো ধরনের নাশকতা নস্যাৎ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
