January 16, 2026, 12:03 am


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-01-15 21:35:46 BdST

চরের মানুষ একজোট টুকুকে দিবে ভোট


টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের মানুষের প্রত্যাশা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি হলে মন্ত্রীও হবে। বিশেষ করে চরের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা টুকু এমপি হলে মরহুম মাহমুদুল হাসান যে স্বপ্ন ও অসমাপ্ত কাজ রেখে গেছেন তা পূরণ করতে পারবেন।

তাদের মতে, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলের গর্ব ও অহংকার। তিনি জাতীয় নেতা। মাহমুদুল হাসান এবং আবদুল মান্নানের পর টুকুই যোগ্য। টুকুর বিনয়ী আচরণে মুগ্ধ টাঙ্গাইল-৫ আসনের ভোটাররা। একজন নিরহংকারী মানুষ টুকু। তাকেই বেছে নিয়েছে ভোটাররা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ভোটার ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

তাদের বক্তব্য ও ভাষ্যমতে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে ৬৩ শতাংশ নারী ও পুরুষের সমর্থন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদের পক্ষে ২১ শতাংশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিতর্কিত) ফরহাদ ইকবালের পক্ষে ১৯ শতাংশ সমর্থন রয়েছে। তবে অধিকাংশ ভোটারদের মুখে টুকুর কথা শোনা গেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে টুকুর গ্রহণযোগ্যতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। চায়ের স্টলে এখন শুধু টুকুকে নিয়েই আলাপ হচ্ছে।

নির্বাচনী আড্ডায় টাঙ্গাইল উদ্যানে প্রচারণা জমে উঠেছে। তাদের জল্পনা-কল্পনা টুকু টাঙ্গাইল সদরের উন্নয়নে যা করতে পারবেন তা অন্য প্রার্থীদের দিয়ে সম্ভব হবে না। পাড়া-মহল্লা,হাট-বাজার, চায়ের স্টল এবং অফিস-আদালত এলাকায় জমজমাট আড্ডায় টুকুর পক্ষে জোয়ার উঠেছে। যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কৃষক-দিনমজুর, রিকশাওয়ালা এবং তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিচ্ছে। তাদের একটাই কথা, টুকুকে ভোট দিলে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মাহমুদ নগরে গিয়ে স্থানীয় ভোটারদের সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে টুকুর প্রশংসার কথা। টুকু যেভাবে ভোটারদের মন জয় করেছেন তা বলে শেষ করা যাবেনা।

আমেনা খাতুন (৫৫) এই প্রতিবেদককে বলেন, চরের জনগণের দুঃসময়ের বন্ধু টুকু। তিনি আমাদের পাশে এসে ভোট চাচ্ছেন। তার আচার-আচরণ আমাদের ভালো লেগেছে। শুনেছি টুকু বিএনপির অনেক বড় নেতা। সে এমপি হলে আমাদের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হবে। যমুনার পাশে দিয়ে বেরিবাদ করে দিবেন।বর্ষাকালে চর অঞ্চলের মানুষের মানুষের কষ্টের সীমা নেই। তাই টুকু ভাই আমাদের দুঃসময়ের কান্ডারী। ১২ ফেব্রুয়ারীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) থেকে বিপুল ভোটে টুকু নির্বাচিত হবে বলে চরের সর্বস্তরের মানুষ প্রত্যাশা করেন।

টাঙ্গাইলের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা আস্থা রেখেছেন টুকুর উপর। বিগত সরকার আমলে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য নিরাপদে করতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টাঙ্গাইল-৫ আসনের ৭০ হাজার হিন্দু ভোটার নিরাপদে ব্যবসা করছে। টুকুর হস্তক্ষেপে এখন কেউ আমাদের বিরক্ত করে না ও চাঁদাও চায় না। টুকু ভাই আমাদের সাথে সহনশীল আচরণ করছেন। তার বিনয়ী আচরণে আমরা মুগ্ধ। তিনি এমপি হলে টাঙ্গাইল উন্নয়নের মডেল শহর হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আপাদমস্তক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া। টাঙ্গাইলের মানুষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর খুশি। তারেক রহমান সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মনোনয়ন দিয়ে টাঙ্গাইলে ভঙ্গুর রাজনীতিকে স্বাবলম্বী করেছেন। টুকু পরিবারের আত্মত্যাগ জিয়া পরিবার মূল্যায়ন করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ আসনের ভোটাররা ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাতে আরো শক্তিশালী করবে। বিপুল ভোটে টুকু এই আসন থেকে বিজয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রতিনিয়ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সমর্থন বাড়ছে। প্রতিটি গ্রামের নারী-পুরুষ ও তরুণ প্রজন্মের কাছে টুকু নাম টি এখন মুখে মুখে। টুকুর জন্য ভোটাররা ভোট ও দোয়া চাচ্ছেন। মহিলা ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে টুকুর পক্ষে ভোটের জন্য সকলের দরজায় কড়া নাড়ছেন। এই কনকনে ঠান্ডা তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সকলের মুখে রব উঠেছে ধানের শীষের জয় হবে।

টাঙ্গাইল সদরের মানুষের সচেতন মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, টুকু আঁকড়ে ধরে রেখেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ। হুকুম তামিম করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার। তিলে তিলে নিজেকে নিঃস্ব করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখেছেন। বিএনপির বিপ্লবী এই নেতা রাজপথে আন্দোলনে পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। আওয়ামী দুঃশাসন আমলে টুকু নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। এটাই ছিলো টুকুর প্রতিদিনের রুটিন।

তারেক রহমান টুকুকে মনোনয়ন দিয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে উজ্জীবিত করেছেন। বিএনপির কঠিন দুঃসময়ের সময়ের পরীক্ষিত নেতা টুকুকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে আমাদের। টুকুর বিকল্প নেই, আমরা তাকেই ভোট দেব ইনশাআল্লাহ।

রাজনীতির ময়দানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে মাঠের যেসব নেতাকর্মী রাজপথে রক্ত ঝড়িয়েছে, জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হলে আমরা টাঙ্গাইলবাসী ধন্য হবো। বিএনপি টুকুকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়ায় গোটা টাঙ্গাইল জেলায় দলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। টুকুর দলের জন্য যে আত্মত্যাগ তা তারেক রহমান মূল্যায়ন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া টুকুকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ-মায়া করতেন। টুকুর দলের জন্য যে, অবদান তা শুধু দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের কাছেও টুকুর গ্রহণ যোগ্যতা অপরিসীম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইলের ভঙ্গুর রাজনীতির হাল ধরেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি দলের জন্য, ধানের শীষ প্রতীকের সাথে যারা আছেন তাদেরকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি সম্ভব হয়েছে টুকুর মেধা, পরিশ্রম ও সাংগঠনিক যোগ্যতার ভিত্তিতে। টুকুর বিপরীতে যারা অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী দোসরদের শেল্টার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারা মামলা বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ গ্রহণ করেছে। টুকু তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন। যে কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিএনপির হাইকমান্ড এই বিষয়গুলো কেন আমলে নিচ্ছেন না, তা টাঙ্গাইলবাসীর কাছে এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সুবিধাবাদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি ফরহাদ ইকবালকে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র নির্বাচনে নামিয়ে দলের ক্ষতি করার অপচেষ্টা করছেন। ঐ চক্রের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে অবশ্য ই চিহ্নিত করা দরকার। তাতে বিএনপি বেশি লাভবান হবে।

আওয়ামী দুঃশাসনে নিষ্পেষিত, নির্যাতিত ও জেল-জুলুমের শিকার সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আওয়ামী সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে, ৩৩৮ টি মিথ্যা মামলা মোকাবিলা করেছেন। ১২ বার জেল খেটেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের জাতাকলে টুকুর জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ৫টি বছর। টুকুর সহধর্মিনী সায়মা পারভীন সিম্মি প্রশাসনের ধারে ধারে ঘুরেও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সন্তান ও স্বজনদের নিয়ে অর্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। তাঁর আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠলেও সাম্মির আর্তনাদে সাড়া দেয়নি হাসিনার প্রশাসন যন্ত্র। টুকুকে জেলের বাইরে ও ভেতরে কয়েকবার মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। টুকুর বড়ভাই সাবেক এমপি এডভোকেট আবদুস সালাম পিন্টু বিনা দোষে কারাগারে ছিলেন প্রায় ১৭ বছর। পরিবারের অন্য সব ভাইদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল জঙ্গির সাথে সম্পৃক্ত সাজানো মামলা। এই পরিবারটিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে নানা বানোয়াট, মিথ্যাচার ও নির্যাতন করেছে পতিত সরকার। টুকু পরিবারের উপর স্পর্শকাতর নির্যাতন চালানো হয়েছে । শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধরে রাখতে, পরিবারের মায়া ত্যাগ করে জীবনের প্রায় সবটুকু সময় ব্যয় করে যাচ্ছেন দলের জন্য।

হাসিনা সরকারের অন্যায়,অবিচার প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে অসংখ্যবার রাজপথে রক্তাক্ত হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। রাজপথে আন্দোলনের সময় গাড়ির গ্লাস ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় টেনেহিচড়ে বের করে টুকুকে মিন্টু রোড়ে নিয়ে চোখ বেধে নির্মমভাবে পিটিয়েছে হাসিনার পুলিশ বাহিনী। মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি শিরোনাম হয়েছেন বিএনপির নির্যাতিত নেতা টুকু। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া টুকুর সাহস,শক্তি, মেধা, ধৈর্য ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করতেন প্রায় সময়।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টুকুর অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। টাঙ্গাইল-৫ আসনে জনপ্রিয়তায় টুকু এগিয়ে। টাঙ্গাইলে ভঙ্গুর রাজনীতিতে টুকুর সার্বিক চেষ্টায় সর্বস্তরের জনগণ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে এক সুন্দরময় অবস্থা ফিরে এসেছে। কতিপয় স্থানীয় শীর্ষ নেতা টুকুর রাজনৈতিক গঠনমূলক কর্মকান্ড দেখে হতাশায় ভুগছেন। ওই সকল নেতারা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে দলের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত রয়েছে। তাদের মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র গণমাধ্যমে বার বার প্রচার হয়েছে।

বিএনপির হাইকমান্ড কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা তা প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মেধা, কৌশল ও ধৈর্যের সাথে সবকিছু মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছেন। দল ও নেতাকর্মীদের স্বার্থে একের পর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করছেন। অপরদিকে মিথ্যা প্রচারনা আর অপবাদের যারা আশ্রয় নিয়েছেন তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। দলের নেতাকর্মীসহ জনবিচ্ছিন্নতায় ক্রমেই ছিটকে পড়ছেন তারা।

টাঙ্গাইল-৫ আসনের জনমানুষের কাছে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর গ্রহন যোগ্যতার অন্যতম কারণ হচ্ছে, তিনি এমপি না হয়েই বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে সদর উপজেলার বিশাল চরাঞ্চলের উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। ইতিমধ্যে টুকুর আন্তরিক চেষ্টা ও তদবিরের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ শুরু হবার পথে। তাঁর বিনয়ী আচরণ টাঙ্গাইল সদরের মানুষের কাছে প্রশংসার পাশাপাশি গ্রহন যোগ্যতা পেয়েছে। গরীব অসহায় মানুষের নেতা টুকুর জন্য ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ১২ টি ইউনিয়ন ও টাঙ্গাইল পৌরসভার বিএনপি নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সাথে কতিপয় নেতা থাকলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী টুকুর সাথে যোগ দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সাথে যোগসাজশ করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করতে চায় ফরহাদ ইকবাল। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষার অভিযোগ রয়েছে।যে আওয়ামী লীগ টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও ভয়াবহ অত্যাচার করেছে, তাদের আশ্রয়দাতা এখন ফরহাদ ইকবাল। জেলা শহর থেকে তৃনমুল পর্যায়ে একই কায়দায় তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ সাড়ে ১৫ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৮১টি মামলায় অন্তত নয় হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। টাঙ্গাইল থেকে বিএনপি নিধন করতে নেয়া হয় বিশেষ পরিকল্পনা। এর অংশ হিসেবে হাফ ডজন নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। কতজন নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরন করেছেন তার হিসাব নেই। বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা হয়। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে অনেকে দেশত্যাগ করেন। টাঙ্গাইলে গণহারে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পান আওয়ামী নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীরা। পতিত সরকারের পুলিশের গুলিতে জুলাই অভ্যুথানে টাঙ্গাইলের নয়জন ছাত্রজনতা নিহত হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টাঙ্গাইলে আহত হয়েছে দুইশ’ ৭০ জন। যাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সবকিছুকে সামলিয়ে বিএনপিকে একটি শক্তিশালী জায়গায় দাড় করিয়েছেন। বিএনপির যে সব শীর্ষ নেতা আওয়ামী দোসরদের শেল্টার দিচ্ছে তাদের মুখোমুখি শত্রুতে পরিনত হয়েছেন টুকু। টাঙ্গাইলে বিএনপির রাজনীতিতে টুকুর বিকল্প নেই বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের ত্যাগি নেতাকর্মীরা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমাদের পরিবারকে টার্গেট করেছিল। বিএনপিকে ধ্বংসের জন্য এই লক্ষ্য ছিল। তবে আমরা তাতে দমিনি। নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জাতীয়তাবাদী ঝান্ডা বহন করেছি। এখন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কাজ করছি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে নমিনেশন দিয়েছে। এমপি হতে পারলে, আর আল্লাহর রহমত হলে টাঙ্গাইলকে বদলে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

টুকুর জনপ্রিয়তা ও সদরে উন্নয়নের ছোঁয়া

টাংগাইল- ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নিজেকে সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ফলে ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে টুকু একটি জনপ্রিয় নাম। টুকুর ব্যাক্তিগত উদ্যোগ ও তদবিরে বিশেষ করে বিশাল চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মাহমুদ নগর ইউনিয়নের বহুলী ও মাকোরকোল মধ্য দিয়ে ধলেশ্বরী নদীর উপর প্রায় এক কিলোমিটার একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য এলজিইডি থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে টুকুর প্রচেষ্টার কারণে। বর্ষাকালে নদীটি পানিতে পরিপূর্ন থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশে ১/২ ফিট পানি থাকে। প্রায় অধিকাংশ অংশে বালি জমে থাকে। অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন ইঞ্জিন চালিত খেয়া নৌকায় নদী পাড় হয়ে টাঙ্গাইল সদরে আসা যাওয়া করে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি, অটোরিকসা ও পায়ে হেঁটে ওই এলাকার আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ নদী পারাপার হয়। মেজর জেনারেল হাসান মাহমুদ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে টাংগাইল সদর হতে ধলেশ্বরী নদীর পর্ব পাড় পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মান করেছিলেন। কিন্তু ব্রীজটি নির্মান করতে পাড়েননি। তাই টাংগাইল পশ্চিম পাড় সহ চৌহালী উপজেলার মানুষের প্রানের দাবি ধলেশ্বরী নদীতে একটি আরসিসি ব্রীজ নির্মান হোক। প্রায় ৭০০ মিটার এই ব্রীজের একটি ছাড়পত্র ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ থেকে এলজিইডিতে পাঠানো হয়েছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

চরাঞ্চলের মানুষ মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের পর সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উপর ভরসা রাখছে। তিনি ইতোমধ্যে চর অঞ্চলের মানুষের পাশে বিভিন্নভাবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সুপারিশে ৮টি রাস্তার কাজ পাশ হয়েছে। এছাড়াও মসজিদ ও মাদ্রাসা সহ বহু সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। চর এলাকার মানুষ সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। তিনি এমপি হলে মন্ত্রীও হবেন ইনশাআল্লাহ।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে ভিড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন ফরহাদ ইকবাল। এড. ফরহাদ ইকবালের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য এবং আওয়ামী দোসরদের শেল্টার দিয়ে অবৈধ টাকা উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অভিযোগ তদন্ত করে দলীয়ভাবে ফরহাদকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে টাঙ্গাইলের জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.