May 5, 2026, 7:48 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-05-05 18:08:34 BdST

চরবাসীর মণিকোঠায় টুকু


সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল সদরের ভোটারদের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করেন এমপি হবার পর থেকেই। তিনি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর টাঙ্গাইল সদরের উন্নয়নে চমক দেখাতে শুরু করেন। একটি মহল টুকুকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। আজ তাদের মুখে চুন কালির দাগ পড়েছে।

চরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং ধুলিবালির সাথে মিশে থাকা আশা-আকাঙ্ক্ষার যেন, প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল পশ্চিম চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা সংস্কৃতি মানবিকতা এগিয়ে থাকলেও রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং রাস্তাঘাট না থাকায় জনদুর্ভোগ ছিল অপরিকল্পনীয়। বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কাজ করেননি সেটা বলা যাবে না। তারাও কাজ করেছেন কিন্তু সামর্থের সবটুকু উজাড় করে তারা কাজ করেনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েই সংসদ সদস্য হয়েছে। সাধারণ জনগণও টুকুর উপর আস্থা রেখে তার প্রতিশ্রুতিকে মূল্যায়ন করেছিলেন । তাদের ধারণা ছিলো সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলের উন্নয়নে যা পারবেন, তা অন্য কেউ হয়তো পারবে না। তবে টুকুর বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্র কম করা হয়নি। ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে টাঙ্গাইল সদরে বিপুল ভোটে টুকু এমপি নির্বাচিত হন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই কথা উঠেছিলো যে টুকু কাজ করবেন কি? তিনি পাশ করার পর আসবেন কি? কিন্তু না, তিনি কাজ শুরু করলেন। নিয়মিত এলাকায়ও যান। দিবারাত্রি মানুষ তার কাছে নানা সমস্যা নিয়ে আসেন। প্রত্যেকের কথা মনযোগ দিয়ে শোনেন এবং তামিল করেন। টুকুর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দার মধ্যেও চলাঞ্চলের ভাগ্যের পরিবর্তন ও দুর্ভোগ কমাতে কাজ করছেন। নানা কল্পনা আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শীঘ্রই ব্রীজের কাজ হতে যাচ্ছে। এই খবরে চরের মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ বইছে।

জানা গেছে, শিবপুর বাজার কাশিনগর খেয়াঘাট রাস্তায় ১৪৫০ মিটার নদীর উপর ২৫০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজ নির্মাণ এর অনুমোদন হয়েছে। টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চলে টাঙ্গাইল নাগরপুর রোডস্থ ধলেশ্বরী নদীর উপর আরো দুটি ৩২০ ও ৬৫০ মিটার ব্রিজ নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলছে। অতি দ্রুত টাঙ্গাইল পশ্চিম অঞ্চলের কৃষকের উৎপাদিত পণ্য, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। শহরে যাতায়াতে সময়ের অভাব সংকীর্ণতা কেটে যাবে। সেই সাথে এই অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী দ্রুতই উন্নয়নের ছোঁয়া। এই অঞ্চলে শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশে এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটবে রাস্তার উন্নয়ন সুগঠিত হলে।

পশ্চিম টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের মানুষ সফলতা এবং আশার সাথে বিশ্বাস করে, তৈরীকৃত রাস্তা ঘাট যেন,সময়ের সাথে সাথে টিকে থাকে। দীর্ঘ যুদ্ধ ও সংগ্রাম বিশেষ করে, বিগত সময়ে দেখা গেছে, রাস্তা-ঘাট নির্মাণের দুই তিন মাসের মাথায়- রাস্তা-ঘাট গুলো ভেঙে যেতো। বৃষ্টি বাদলে রাস্তায় জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে সুবিধার চাইতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বেশি হয়। যা এই অঞ্চলের সাধারণ জনগণের কাম্য নয়। সুতরাং

এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবি রাস্তাঘাট মেরামতে ব্যবহৃত কাঁচামাল যথার্থ এবং সঠিক পরিমাণে যেন ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাপারে ঠিকাদারদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দেবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চরের অবহেলিত জনগোষ্ঠী।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.