January 24, 2026, 11:10 am


সামিউর রহমান লিপু

Published:
2026-01-24 04:47:07 BdST

অদ্যাবধি অধরা নেপথ্যের কুশীলবআবু সাঈদ-ওসমান হাদী: লাশের রাজনীতির শেষ কোথায়?


আবু সাঈদ-ওসমান হাদী: লাশের রাজনীতির শেষ কোথায়?

অদ্যাবধি অধরা নেপথ্যের কুশীলব

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মহামান্য আদালতের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা।

গত ২০শে জানুয়ারী (মঙ্গলবার) ঢাকার মূখ্য মহানগর দায়রা আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এদিন প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যখন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তার গুলিবিদ্ধ পোষাক পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেন তখন কোর্টরুমে বিরাজ করছিলো এক পিনপতন নীরবতা।

মহামান্য আদালতের নির্দেশে পোষাক পরীক্ষা শেষে ঐ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন আবু সাঈদের পরিধেয় পোষাকে গুলি লাগার কোন চিহ্নই পাওয়া যায়নি। এমনকি, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আবু সাঈদের মৃত্যু মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডেও চাঞ্জল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমদিকে খেই হারিয়ে ফেললেও পরবর্তীতে অপরাধীদের ছড়ানো জাল ভেদ করার পরে ডিবি পুলিশের সামনে এসেছে জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারী জেনারেল গোলাম পরওয়ারের ছেলে সালমানের নাম।

সম্প্রতি, এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে গত ১৪ জানুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে।

সেখানে জুমা দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজা নামাজের সামনের কাতারেই ছিল।

জুমা বলেন, ‘আগামীকাল কোর্টে শুনানি। চার্জশিট যা দিয়েছে শুধু মাসুদ আর বাপ্পি আছে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ঘটনা ঘটার পরের সব আছে। আগের কিছুই নাই। মাস্টারমাইন্ডদের বের করা কি সম্ভবপর নয়, নাকি ইচ্ছে করেই করতে দেয় না জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরা কারা, কী এমন শক্তি তাদের যে তাদের কখনো সামনে আনা পসিবল (অসম্ভব) না, শুনে আমাদের মেনে নিতে বলা হয়?

হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া ভিডিও’র মাধ্যমে ফয়সাল করিম মাসুদ জড়িত বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে বের করার চেষ্টা করে সংবাদমাধ্যম 'দ্যা ডিসেন্ট'।

উল্লেখ্য যে, 'দ্যা ডিসেন্ট'র সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জামায়াতে ইসলামী’র পক্ষে ন্যারেটিভ নির্মানকারী হিসেবে পরিচিত।

'দ্যা ডিসেন্ট' কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ফয়সাল করিম ও আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যায়। যেখানে দাবি করা হয়, আলমগীর বাইক চালাচ্ছিলো এবং ফয়সাল করিম পিছনে বসে পিস্তল থেকে গুলি করেছে।

ওদমান হাদীর উপর হামলা ও গুলিবর্ষণের মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যেই হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং ফয়সাল ও তার সহযোগীকে শনাক্ত করে তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। তখন থেকেই এই পুরো বিষয়টি ছিল সন্দেহের তালিকায়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের শুরুতেই তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রথম যে প্রশ্নটি সামনে আসে সেটি হচ্ছে; ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এবং 'দ্যা ডিসেন্ট' এর সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির কিভাবে এত দ্রুত হামলায় জড়িতদের তথ্য পেলেন? 

পাশাপাশি, এই দুই আলোচিত সাংবাদিককে ব্যবহার করে প্রভাবশালী কোন মহল পর্দার আড়াল থেকে ভিন্ন কোনও চিন্তাধারা বা ন্যারেটিভ তৈরির জন্যই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা র! বাস্তবতার নিরিখেই এই প্রশ্নগুলো এখন সামনে চলে এসেছে।

নানা মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘিরে টার্গেট কিলিং ঘটানো, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অজুহাতে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার ঘৃন্য অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

যেভাবে হাদী হত্যাকাণ্ডের মোড় ঘুরে গেলো

হামলা প্রসঙ্গে  সায়ের ও শিশির কর্তৃক দাবিকৃত এই তথ্যের বিষয়টি ডিবি'র তদন্ত দলের কাছে প্রথমেই খটকা লাগে বিশেষত যখন তারা হামলাস্থলের আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। এসময় তারা দেখতে পান যে, ওসমান হাদীকে বহনকারী অটোরিকশার ডান পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে ক্রস করছিলো ফয়সালও আলমগীর।

এছাড়াও, ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে যখন ওসমান হাদীকে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিলো তখন স্পষ্টভাবেই দেখা যায় হাদীর বাম কানের নিচে গুলি লেগেছে।

স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রশ্ন উঠেছে যে, আলমগীরের বাইকটি যেহেতু হাদীর অটোরিকশার ডানদিক দিয়ে যাচ্ছিলো সেহেতু ফয়সাল যদি গুলি চালিয়েও থাকে তবে সেটি হাদীর শরীরে ডানদিক থেকে বিদ্ধ হওয়ার কথা। অথচ, গুলিটি বিদ্ধ হয়েছে বাম দিক থেকে।

সেদিন গণমাধ্যমকে একই তথ্য দিয়েছেন ওসমান হাদিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহযোগী মিসবাহ ও জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ।

ওসমান হাদিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মিসবাহ জানান, জুমার নামাজ পড়ে মতিঝিল বিজয়নগর কালভার্ট এলাকা দিয়ে রিকশা করে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তার ওপর গুলি চালায়। তার বাম কানের নিচে গুলি লাগে। গুলি করেই তারা পালিয়ে যায়। এরপর ওসমান হাদিকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওসমান হাদিকে জরুরী চিকিৎসা দেওয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, হাদিকে যখন জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। পরে তাকে সিপিআর দেওয়া হয়। তার বাম দিকের চোয়ালে গুলি ঢুকে মাথার ভেতরে গুলি প্রবেশ করেছে।

গনমাধ্যমে রহস্যময় নীরবতা

যদিও আশ্চর্যজনকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সারির কোনও সংবাদমাধ্যম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেনি।

প্রসঙ্গক্রমে, একঝাঁক প্রতিভাবান ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের বদৌলতে হঠাৎ করে দুটি প্রশ্ন সামনে আসতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই দুটি প্রশ্ন হচ্ছে:

> কেন এবং কিভাবে ওসমান হাদীর বামদিকের চোয়ালে গুলি লেগে মাথায় ঢুকলো?

> অটোরিকশায় হাদীর বামপাশে বসা মিসবাহকে টপকে গুলিটি তাহলে কে করলো?

উল্লেখ্য যে, হামলার সময় অটোরিকশায় হাদীর বামপাশেই বসেছিলেন মিসবাহ যিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন।

ডিবির তদন্তে কীভাবে সালমানের নাম?

ডিবি ছায়া তদন্ত শুরুর পরে যখন ওসমান হাদীর গুলির পজিশন ও ফয়সাল করিমের বাইকের পজিশন বিশ্লেষণ করে তখনই প্রথমবারের মতো সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপরে ডিবি সন্দেহভাজন হিসেবে তুলে নিয়ে যায় হাসপাতালে নিয়ে আসা মিসবাহ’কে। কারণ হাদীর গুলি লাগার পরপরই মিসবাহ’কে লাইভ ভিডিও’তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে দায়ী করতে দেখা গিয়েছিল।

ডিবি সুত্র বলছে, ফয়সাল করিমের কাজ ছিল ব্যাকাপ দেওয়া, হাদীকে সরাসরি শ্যুট সে করেনি বরং হাদীকে শ্যুট করেছে মিসবাহ নিজেই। সেসময় ধোঁয়াশা সৃষ্টির জন্যে এবং পালিয়ে যেতে ফয়সাল ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে মিসবাহ স্বীকার করে সে শিবির কর্মী এবং তাকে হাদীর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারী ও সময়মতো হাদীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে তার দল ইসলামী ছাত্রশিবির। আর ছাত্রশিবিরের পক্ষে থেকে তার সাথে যোগাযোগ রাখতো জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারী জেনারেল গোলাম পরওয়ারের ছেলে সালমান।

তদন্ত প্রক্রিয়ায় নগ্ন হস্তক্ষেপ ও হুমকি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবি'র পরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ওসমান হাদীর উপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী মিসবাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়।

পরে, খবর পেয়ে দ্রুত মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে ছুটে  আসেন পরওয়ার পুত্র সালমান ও শিবিরের তৎকালীন ঢাবি সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ।

এই দুই ছাত্রনেতা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বলেন। মূলত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপের বদৌলতেই মিসবাহকে তারা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় তারা।

মিসবাহকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় দম্ভোক্তি প্রকাশ করে হাস্যজ্বল সালমান ও ফরহাদ ডিবি কার্যালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেন।

একইসাথে, এই ঘটনা ফাঁস করা হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঘটনার সময় পাশেই উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা।

ডিবি সুত্র বলছে, এই ঘটনার দায় অন্যদিকে সরাতে বেশ কয়েকজনকে পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেখাতে হয়েছে।

মামলা ও আইনী প্রক্রিয়া

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে।

এই ঘটনায় ১৪ই ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

গুরুতর আহতাবস্থায় ওসমান হাদীকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যু হয় তার।

পরে, গত ২০শে ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

তদন্তে অসন্তোষ

এর আগে, গত ৬ই জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।

তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি পুনরায় অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে; যাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন। এই মামলায় মোট ৭৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে।

এই মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- প্রধান সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।

প্রাথমিকভাবে তারা ভারতে চলে গেছেন ধারণা করা হচ্ছিল। কিছুদিন পর হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোষ্ট করেন প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ।

উক্ত পোষ্টে তিনি দাবি করেন, ভারত নয় তারা এখন অবস্থান করছেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

অন্যদিকে, কারাগারে আটক থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু। 

এছাড়া, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, অভিযুক্তদের ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ ফয়সালও (ফয়সাল করিম মাসুদ নন) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.