S M Fatin Shadab
Published:2026-02-01 15:52:26 BdST
বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে জামায়াত আমিরের ডিভাইস হ্যাকের অভিযোগ
বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে দলের আমির শফিকুর রহমানের ডিভাইস হ্যাক করা হয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারে কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, ‘ডিভাইস হ্যাক করে দলীয় আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে জঘন্য আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। জামায়াত ও দলের আমিরকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ঘটানো হ্যাকের ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় শনিবার রাতে জিডি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম তথ্যচিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর পোস্ট দেয় হ্যাকাররা। ওই সময়ে জামায়াত আমির কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন। এর লাইভ ভিডিও রয়েছে। ফলে জামায়াত আমিরের পক্ষে পোস্ট করা সম্ভব ছিল না ওই সময়ে। পোস্টের বিষয়টি ৪টা ৫৩ মিনিটে নজরে আসে জামায়াতের তধ্যপ্রযুক্তি টিমের। বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদল করা হয়। ৫টা ২২ মিনিটে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকের বিষয়টি জানানো হয়। তবে এর আগেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক্স অ্যাকউন্ট থেকে আপত্তিকর ওই পোস্টটি শেয়ার করে, এর বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়।’
এক্স হ্যাক হলে উদ্ধারে তিন দিন পর্যন্ত লাগে। জামায়াত কী করে আধা ঘণ্টায় অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফেরত পেলো- এই প্রশ্নে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যপ্রযুক্তবিদ মাহমুদ আলম বলেন, ‘জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট নয়, হ্যাক হয়েছিল ডিভাইস। সেই ডিভাইসে এক্স অ্যাকাউন্ট লগইন ছিল। ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে হ্যাকাররা এক্স কাউন্ট থেকে পোস্ট দেয়। বিষয়টি নজরে এলে ডিভাইসে এক্সের সেশন সমাপ্ত করে ৫টা ৯ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদল করা হয়। মানে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি।’
ডিভাইস কীভাবে হ্যাক হলো- এমন প্রশ্নে মাহমুদুল আলম তথ্যচিত্র তুলে ধরে দেখান, গত ২৩ জানুয়ারি বঙ্গভবনের ব্যবহৃত সরকারি ই-মেইল ঠিকানা ‘[email protected]’ থেকে জামায়াত আমিরের ই-মেইলে মেইল আসে। এতে লেখা ছিল ‘নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি তথ্য’। সরকারি ই-মেইল হওয়ায় জামায়াত আমিরের একটি ডিভাইস থেকে মেইলের অ্যাটাচমেন্ট খোলা হয়। এই ‘ফিশিং অ্যাটাচমেন্টে’ ক্লিকের কারণে ওই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের কাছে চলে যায়। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের কাছেও একই ই-মেইল ঠিকানা থেকে মেইল যায়। অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছেও ফিশিং মেইল পাঠানো হয়। বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের ই-মেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করার কথা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিবের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট গত ১২ জানুয়ারি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়।’
সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিভাইস হ্যাকার ৪টা ৩৭ মিনিটে নারীর প্রতি অবমাননাকর পোস্টটি দিয়ে এক মিনিট পর স্ক্রিনশট রাখে। জামায়াত ৫টা ২২ মিনিটে হ্যাকের কথা জানিয়ে বিবৃতি দেয়। স্ক্রিনশট ভাইরাল করা হয় রাত ১২টার দিকে। যদি জামায়াত আমিরের টিমের কেউ পোস্টটা দিতো, তাহলে তো ভাইরালের পর হ্যাকের বিবৃতি দিতো মুখরক্ষায়। ভাইরাল হওয়ার সাত ঘণ্টার বেশি সময় আগে জামায়াত হ্যাকের তথ্য জানিয়েছে।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে প্রচার ও আদর্শে না পেরে প্রতিপক্ষরা জামায়াতকে হেয় কররত হ্যাকের মতো জঘন্য কৌশল বেছে নিয়েছে। জামায়াত আমির শনিবার দুপুরে এক্স থেকে নারীদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। জামায়াতের নেতৃত্বের ৪৩ শতাংশ নারী। অধিকাংশই কর্মজীবী। জামায়াত আমিরের পরিবারের নারীরাও কর্মজীবী। যিনি নারীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান, যার সহকর্মীরা নারী, যার পরিবারের নারীরা কর্মজীবী, তিনি কী নারীরের বাইরে কাজ করা সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু বলতে পারেন?’
এহছানুল মাহবুব বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘একটি দল জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা করে নারী বিদ্বেষী হিসেবে ভোটের মাঠে পরিচিতি পেয়েছে। নির্বাচনে নারীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে হ্যাকের মাধ্যমে জামায়াতকে হেয় করতে চাইছে। জামায়াত সবকিছু আজ নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। ব্যবস্থা নিতে হবে।’
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
