May 7, 2026, 6:58 pm


মোস্তফা কামাল আকন্দ

Published:
2026-05-07 17:40:16 BdST

চরফ্যাশনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের বৈধ জমিতে উন্নয়নকাজে বাধা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ


কোস্ট ফাউন্ডেশন অভিযোগ করেছে, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নে সংস্থার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে উন্নয়নমূলক কাজ চলাকালে একটি পক্ষ বারবার বাধা সৃষ্টি, দখলচেষ্টা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল ৬ মে (বুধবার) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উর্ধতন  কর্মকর্তারা এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চরমানিকা ইউনিয়নের গণস্বাস্থ্য সংলগ্ন পশ্চিম পাশে অবস্থিত ৬৯ শতাংশ জমি কোস্ট ফাউন্ডেশন ২০২১ সালে চার্চ অব বাংলাদেশের কাছ থেকে বৈধভাবে ক্রয় করে। জমিটির মূল্য ছিল ৩২ লাখ টাকা। বর্তমানে সেখানে “কোস্ট রিসোর্স ও বালাইনাশক প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” নির্মাণের কাজ চলছে, যা স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের দাবি, গত ১৮ এপ্রিল উন্নয়নকাজ শুরুর পর থেকেই একটি পক্ষ নির্মাণকাজে বাধা, জমি দখলের চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সংস্থাটির কর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। গতকাল ৬ই মে ঐ পক্ষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করে।

সংস্থাটি জানায়, নির্মাণ কাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল দক্ষিণ আইচা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উভয়পক্ষকে জমির বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলে কোষ্ট ফাউন্ডেশনের দাবিকৃত জমির মালিকানার সপক্ষে সকল বৈধ নথিপত্র প্রদর্শন করলেও প্রতিপক্ষ জমির মালিকানার পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট ফাউন্ডেশন জানায়, জমি ক্রয়সংক্রান্ত সকল বৈধ দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, সার্ভেয়ার নকশা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি সংস্থার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রশাসনিক নীতিমালার কারণে এসব নথির অনুলিপি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আগ্রহী ব্যক্তি চাইলে চরফ্যাশন কার্যালয়ে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিদর্শন করতে পারবেন।

সংস্থাটি উন্নয়নকাজে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপপ্রচার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

এই সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহাবুদ্দিন। তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কোস্ট ফাউন্ডেশন ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৩ বছর এই জমিনের তত্বাবধান করেছে। ১৯৭০ সালে দাতা সংস্থা চার্জ বাংলাদেশ গরীব মানুষকে বসত ভিটা ক্রয় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশী দাতা সংস্থা থেকে টাকা এনেছিল। সেই টাকায় তারা প্রথমে এই জমিটি ক্রয় করে।

তিনি বলেন, চার্জ অব বাংলাদেশের ৪ একর জমি থেকে ৬৯ শতাংশ বিক্রির পর বাকী ৩ একর ৩১ শতাংশ জমি আমরা কলোনীর বসবাস করা পরিবারদেরকে নিজ প্রতিষ্ঠানের খরচে দলিল করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কিন্ত চার্জ অব বাংলাদেশ তা বাস্তবায়ন করেনি। উপরন্ত সায়েদ ফরাজী নামে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে কলনীর পুকুরের মাছ, গাছের নারিকেল, কলনীর বড়গাছ ও ভিটি বিক্রি করে টাকা চার্জ বাংলাদেশের প্রতিনিধি শংকর বাবু ও অন্যান্যরা এসে সাইদ ফরাজী সহ ভাগ করে নেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানেও সাইদ ফরাজী বিভিন্ন ভাবে কলোনীর ভিটি বিক্রির মাধ্যমে মানুষ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। আমরা আশা করছি, আপনাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার এই ধরনের চাঁদাবাজী বন্ধ করবেন এবং এই কলোনীর প্রকৃত ভিটির মালিকগনকে তাদের প্রাপ্য ভিটা নিজেদের নামে দলিলের মাধ্যমে মালিক হতে পারে তার জন্য সার্বিক সহায়তা করবেন।

তিনি বলেন, আমরা আরও আশা করছি যে বর্তমান সরকারের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন এই অসহায় গরীব ভুমিহীনরা যাতে তাদের জমিনের দলিল পেতে পারেন তার জন্য সহায়তা করবেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মো: শাহাবুদ্দিন আর উল্লেখ করেন যে, এই দুষ্কৃতকারীরা কোষ্ট ফাউন্ডেশনের সামনে থাকা সিএনবির অধিগ্রহণকৃত জায়গায় দোকান করার জন পাঁয়তারা করছে।

কোষ্ট ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক টিম লিডার মোসাম্মৎ রাশিদা বেগম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ সায়েদ ফরাজি, তার আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারীদের সাথে নিয়ে কোস্টের নারী সহকমীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটায়। মূলত কোস্টের সীমানার মধ্যে ঢুকে সরকারী জায়গায় দোকানপাট করতেই এই পায়তারা করছে।

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, প্রতিপক্ষ সায়েদ ফরাজি একেক সময়ে একেক ইস্যুতে আমাদের কাজে বাধাঁ সৃষ্টি করেন। তার কোন বৈধ নথিপত্র নেই। তবুও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তিনি কোষ্ট ফাউন্ডেশনের নিত্যকার কর্মকাণ্ডে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে কোস্টর কর্মসূচি সমন্বয়কারী খোকন চন্দ্র শীল ও মোঃ মাকসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.