May 20, 2026, 8:15 pm


মো. আখতার হোসেন

Published:
2026-05-20 18:43:19 BdST

আলামত জব্দের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিতদ্রুত নিষ্পত্তির দিকে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা


গাজীপুরের বহুল আলোচিত দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় বিচারিক কার্যক্রমে আরও গতি এসেছে। ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত উপস্থাপন ও আদালতের দ্রুত সময় নির্ধারণে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে গাজীপুর আদালতে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান তার স্ত্রী গোলাপিসহ মোট ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। একইদিনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন জব্দকৃত আলামত আদালতে জমা দেওয়া হয় ও আলামত জব্দের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার দাস জানান, “মামলার মেরিট খুবই ভালো। মহামান্য আদালত গুরুত্ব সহকারে এই মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দ্রুত তারিখ পড়ছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুতই দোষীদের বিরুদ্ধে বিচারিক রায় হবে।”

জিএমপির বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, “সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার অগ্রগতি বেশ আশানুরূপ। বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে ও শিগগিরই মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি।”

মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের বড় ভাই সেলিম বলেন, “আমাদের পরিবার খুবই আশাবাদী। আদালতের রায়ের মাধ্যমে আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এর আগে, মামলার ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণে নিহত তুহিনের ভাতিজা সোহাগ সুরতহাল সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। আদালত ইতোমধ্যে পুলিশ সদস্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে।

আলোচিত এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজানকে আদালতে হাজির করার সময়ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে আদালতে আনার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় কেটু মিজান প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছিল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন, “বাংলাদেশে বহু সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। কিন্তু দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় যেভাবে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম এগোচ্ছে, তা সাংবাদিক সমাজের জন্য আশার বার্তা। এই মামলার বিচার সম্পন্ন হলে এটি হবে সাংবাদিক হত্যা মামলার বিচারের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার মাঝখানে প্রকাশ্য দিবালোকে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। চার্জ গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে সাংবাদিক হত্যা মামলার ইতিহাসে বিরল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সাংবাদিক নেতারা।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.