S M Fatin Shadab
Published:2026-01-24 14:08:54 BdST
এক দিনেই গৌতম আদানির সম্পদমূল্য কমল ৫৭০ কোটি ডলার
ভারতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আদানি গোষ্ঠীর কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন কমেছে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার বা ১ লাখ ১ হাজার কোটি রুপির বেশি। এ ঘটনার জেরে এক দিনে গৌতম আদানির সম্পদমূল্য কমেছে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৫৭০ কোটি ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ধনীদের তালিকায় তার অবস্থান এখন ৩০তম।
তবে ২০২৩ সালের মতো এবার অবশ্য এতে হিনডেনবার্গের সংশ্লিষ্টতা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কর্তৃপক্ষ গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে জালিয়াতি ও ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে সরাসরি ই–মেইল করে সমন পাঠানোর অনুমতি চেয়ে মার্কিন আদালতের কাছে আবেদন করেছেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ আদানি গ্রুপের কয়েকজন নির্বাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, আদানি গ্রিন এনার্জির উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুস দেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন তারা। আদানি গ্রিন এনার্জি আদানি গোষ্ঠীরই কোম্পানি।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করে। আদানি পরিবার ও আরও কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যে ফৌজদারি মামলা করেছে, সেটা তার থেকে আলাদা। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিচার বিভাগের মামলাটি এখনো চলমান।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, যেসব বিদেশি কোম্পানি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে, তারা ব্যবসা পাওয়ার জন্য বিদেশে ঘুষ দিতে পারে না। একই সঙ্গে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ আহ্বান করাও আইনত নিষিদ্ধ। আদানি গ্রিনের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেন না হলেও মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক ব্রোকারেজ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার কিনতে পারেন, যেখানে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ জড়িত, মার্কিন আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এদিকে আদানি গ্রুপ যথারীতি এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছে। সেই সঙ্গে নিজেদের রক্ষায় ‘সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ’ নেবে তারা—সে কথাও জানিয়েছে। তবে ২১ জানুয়ারির সর্বশেষ এসইসি নথি নিয়ে রয়টার্স আদানি গোষ্ঠীর মন্তব্য চাইলেও সেই অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক অম্বারিশ বালিগা রয়টার্সকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলেন, আদানি গোষ্ঠী দায়মুক্তি পেয়ে গেছে, সবকিছু মিটে গেছে। এই যখন বাস্তবতা, তখন হঠাৎই যেন এসইসির নথি সামনে এসে পড়ল।
শুক্রবার এ খবর সামনে আসতেই আদানিদের শেয়ারমূল্যে ধস নামে। ফলত ভারতের শেয়ারবাজারের অন্যতম প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটিতেও নামে ধস। এর জেরে গতকাল শুক্রবার ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি রুপির মূলধন কমে গেছে।
সংবাদে বলা হয়েছে, এসইসি কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, গত বছর আনুষ্ঠানিক পথে সমন জারির দুটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের কোনো বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। মার্কিন বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আদানি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও তার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে সমন জারির চেষ্টা করছে।
ভারতের শেয়ারবাজারের অবস্থা এমনিতেই ভালো নয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। ফলে ভারতীয় মুদ্রা রুপিরও দরপতন হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই নতুন রেকর্ড গড়ছে রুপির দরপতন।
এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসায় বৃহস্পতিবার ভারতের বাজারের প্রধান সূচকগুলোর উত্থান হয়। কিন্তু তার ঠিক পরের দিনেই বাজারে ফিরল বিক্রির চাপ।
বাস্তবতা হলো, এই বিক্রির চাপে গতকাল শুক্রবার আদানি গ্রিন, আদানি এন্টারপ্রাইজেস, আদানি এনার্জি ও আদানি পোর্টসের শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুক্রবার দিন শেষে ৭৬৯ পয়েন্ট কমে সেনসেক্স থামে ৮১ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে। নিফটির পতন হয় ২৪১ পয়েন্ট। দিন শেষে এই সূচক শেষমেশ ২৫ হাজার শূন্য ৪৮ পয়েন্টে এসে থামে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমলেও আদানিদের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় পতন সেনসেক্স-নিফটির পতন হয়েছে। পাশাপাশি ডলারসহ বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়ার কারণেও বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাংশ বিপুল পরিমাণে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।
এদিকে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম শূন্য দশশিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৪ দশশিক ৩৫ ডলারে ওঠে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
