April 6, 2026, 11:51 am


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-04-06 05:17:16 BdST

ডুপ্লিকেট এনআইডি, জালিয়াতি ও মানহানির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাদিনাজপুর নারী চেম্বারের সভাপতি, আওয়ামী দোসর ও তথ্যপ্রযুক্তি লীগনেত্রী শাহিনুর ঢাকায় আটক


ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত একটি তদন্তকে কেন্দ্র করে দায়ের করা জালিয়াতি ও মানহানির মামলায় দিনাজপুর মহিলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দাউদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল বিকেল ৪টার দিকে শাহিনুরকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তেরর এসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের কক্ষ থেকে গ্রেফতার করে।

আটকের পর ওসি দাউদ সাাংবাদিকদের জানান, শাহীনুর দিনাজপুর থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসে আজ সকালে প্রথমে উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতো ও পরে প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদের কক্ষে আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী জামিনের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সিএমএম কোর্টের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পূর্বে আদালতের সমনে সাড়া না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গত ১৫ই মার্চ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি বাংলাদেশ পেনাল কোডের ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৭১ ও ৫০০ ধারার আওতায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ধারায় যথাক্রমে জালিয়াতি, সরকারি নথি জালকরণ, জাল নথি ব্যবহার এবং মানহানির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মামলার অভিযোগকারী এসেট প্রকল্পের সাবেক উপ-প্রকল্প পরিচালক খন্দকার খালেদ বলেন, মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুর ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসেট প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন এবং একাধিক আর্থিক অনিয়ম করেন। এই সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেন।

দাবি অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়ায় খন্দকার খালেদ অভিযুক্তের ডুপ্লিকেট এনআইডি শনাক্ত করেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন যে মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুর ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রকল্পের সাথে জালিয়াতি করে চুক্তি করা, ব্যাংক একাউন্ট চালু ও বানিজ্য মন্ত্রনালয় হতে ওমেন চেম্বারের লাইসেন্স গ্রহন করায় সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের লাইসেন্স বাতিলের জন্য আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

পরবর্তীতে, কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসেট প্রকল্পের সাথে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয় হতে জালিয়াতি করে লাইসেন্স গ্রহণ করায় আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশসমুহ অনুমোদন করলে প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান চুক্তিটি বাতিল করেন এবং জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পত্র প্রেরণ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শাহিনুর অভিযোগকারীকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টার নিকট একটি মিথ্যা মানহানিকর অভিযোগ দাখিল এবং পরবর্তীতে তা একটি অনলাইন গ্রুপে প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, অভিযোগকারী কর্মকর্তার একটি তদন্ত-সংক্রান্ত পত্র গোপনে প্রকল্পের অথবা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা হতে অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং গ্রুপে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, খন্দকার খালেদ রিয়াজ এসেট প্রকল্পের কমর্রত থাকাকালীন দুইজন উদধর্তন কর্মকর্তা তাকে মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ লিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে। এই ঘটনায় সরকারী চাকরীতে তার সুনামহানি হয়। পরে, খালেদ রিয়াজ বাদী হয়ে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালকে বিবাদী করে অভিযোগ দাখিল করেন।

বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেেটের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শুরু করার পরে এসেট প্রকল্পের অজ্ঞাতনামা কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা জান্নাতুল সাফা শাহিনুরকে ডেকে নিয়ে বলেন যে, উপ-পরিচালক খন্দকার খালেদ রিয়াজ আপনার চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করেছিলো। এখন তার নামে মামলা দিলে আপনাকে আবার চুক্তি করে এসেট প্রকল্পে কাজ দিব।

শাহীনুর এসেট প্রকল্পের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দিনাজপুরের একাধিক স্বনামধন্য প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকগনসহ বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন।

ফলশ্রুতিতে এসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান ও রবীন্দ্রনাথ মাহাতো দিনাজপুর ওমেন চেম্বারের সভাপতি শাহীনুরকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাল জাতীয় পরিচয়পত্রের কারনে বাতিল করা চুক্তি পুনরায় নতুন করে বহাল করে ২০২৫ এর ২৫ নভেম্বর বেআইনিভাব প্রায় ২ কোটি টাকার কাজ দেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের চীফ মেট্রোপলিটন আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী শাহিনুরকে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ একটি চেক জালিয়াতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে দিনাজপুর কারাগারে প্রেরণ করেন।

এই বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, এসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান এবং প্রথমে উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতোর সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.