April 2, 2026, 9:09 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2026-04-02 19:07:26 BdST

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যুগ্ম কমিশনারকামরুলের থাবায় ৪৩৫ কোটি টাকার রাজস্ব উধাও!


লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া, লাইসেন্স নবায়নে উৎকোচ গ্রহণ, শুল্ক ও ভ্যাট সংক্রান্ত আইন অমান্য করে অর্থ আত্মসাৎ এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে করফাঁকির সুবিধা করে দিয়ে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক যুগ্ম কমিশনারের বিরুদ্ধে।

এই বিষয়ে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র বিশেষ অনুসন্ধানে এনবিআরের ঢাকা (দক্ষিণ) বন্ড কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মো: কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বন্ডেড ওয়্যারহাউস সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রভাব বিস্তার, রাজস্ব বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা পেতে বেআইনি সহায়তা প্রদান, অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে বন্ড লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের স্পর্শকাতর অভিযোগে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছে।

৪৩৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

ঢাকা দক্ষিণ বন্ডের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম এবং ডিসি পূরবী সাহার নিয়ন্ত্রণাধীন রাফায়েত ফেব্রিক্স এবং এস ইসলাম হোম এন্ড ফ্যাশন লিমিটেড মাত্র এক বছরেই ৪৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

কামরুল ইসলাম ঢাকা দক্ষিণ বন্ডে পদায়নের পর মাত্র এক বছরে এই প্রতিষ্ঠানদ্বয়কে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে সহায়তা করেছেন। ভুয়া নিরীক্ষা এবং তথ্য যাচাই না করে সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানসমূহের বন্ডেড প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করেছেন। তাই সামনের বছরে দুই প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ হবে ৮০০ কোটি টাকারও বেশী।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত মাসে এই রাফায়েত ফেব্রিক্স প্রতিষ্ঠানে প্রিভেন্টিভের নাম করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নজরদারী তুলে দিতে জোর করে নির্দেশনা পত্র জারী করেন। এর ফলে, চট্টগ্রাম কাস্টমস এই প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানিতে আর নজরদারী করতে পারবে না। বিশেষায়িত এই সুবিধা দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিআইসি সেলকে ম্যানেজ করার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠান মালিকের কাছ থেকে ঘুষ নেন ১ কোটি টাকা। ঘুষের অর্থ সরাসরি ফালতুর মাধ্যমে উত্তরায় গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে, আরও ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন প্রভাবশালী সদস্যকে দেয়া হয়।

জনশ্রুতি মতে, কামরুল ইসলাম পক্ষপাত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অত্যাবশকীয় এই বিশেষ সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে উক্ত প্রতিষ্ঠান হতে ৩০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। আর এই ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন হয় সুদূর জাপানে। কামরুল ইসলাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচ্চপদস্থ এক সদস্যের আশীর্বাদে গত ছয় মাসে ৩ বার জাপান সফর করেন।

এছাড়া, কামরুলের বিরুদ্ধে অতীতে শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে পণ্য পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তোলারও তথ্য পাওয়া গেছে।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে অসদুপায় অবলম্বন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানাধীন মফস্বল গ্রাম নোয়ানগরের মৃত মোহাম্মদ আলীর সন্তান এই কামরুল ইসলাম। ফ্যাসিস্ট আমলে আলোচিত জনপ্রশাসনের ১২টি গেজেটের মাধ্যমে ৩০তম বিসিএসে কাস্টমস ক্যাডারে নিয়োগের চূড়ান্ত গেজেট হয় ১৭-০৫-২০১২ সালে। ঐ বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অন্যতম কারিগর ড্রাইভার আবেদ আলীর কাছ থেকে প্রশ্নপত্র কিনে লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন অভিযুক্ত কামরুল। এরপর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাবেক জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচটি ইমামের সুপারিশে তিনি মৌখিক পরীক্ষার বৈতরণী পার হন।

উৎকোচের তালিম নিয়েই চাকুরিতে যোগদান

গেজেট অনুযায়ী, ০৩-০৬-২০১২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারী) হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যোগ দেন কামরুল। যোগদানের পর তার প্রথম পদায়ন হয় কাস্টমস হাউজ, চট্টগ্রামে।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রজ্ঞাপন জারির পর সরকারি চাকুরিতে যোগদান এবং পছন্দনীয় স্থানে পদায়ন প্রাপ্তির এই অসম যুদ্ধে জয়ী হতে কামরুল ইসলামকে গুনতে হয়েছিলো ৩৫ লাখ টাকা।

এদিকে, চট্রগ্রাম কাস্টমস হাউজে মাত্র ১ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৩ সালের ২৯ আগষ্ট কামরুল ইসলাম যশোর কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে বদলী হন। যশোর কমিশনারেটের অধীনস্থ ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া ডিভিশনে তিনি চাকুরি করেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত।

ফরিদপুর ডিভিশনে যোগদান করেই কামরুল সখ্যতা গড়ে তোলেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিয়াই এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের আর্শিবাদেই দুর্নীতিপরায়ন হয়ে উঠেন কামরুল ইসলাম।

টাকার নেশায় বেপরোয়া

ফরিদপুরের বিভিন্ন ইটভাটা, মিস্টান্ন শোরুম, আবাসিক হোটেল-রেস্তোরায় তিনি বারংবার অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর থেকেই তাকে পেয়ে বসে টাকার নেশা।যেসব প্রতিষ্ঠান তাকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা প্রদান করতো না; তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো। ভুক্তভোগী কোনও ব্যবসায়ী এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ডান হাত বলে পরিচিত ফরিদপুরের ত্রাস দুই সহোদর বরকত ও রুবেলের মাধ্যমে দেয়া হতো প্রাণনাশের হুমকি। 

ক্ষমতার অপব্যবহার, লাগামহীন ঘুষবানিজ্য সত্বেও থামছিলো না কামরুলের টাকার নেশা। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের সাথে নিজের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে মাত্র ৭ মাসের মাথায় কামরুল হাতিয়ে নেন যশোর কাস্টমস কমিশনারেটের অন্যতম লোভনীয় পোষ্টিং হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত কুষ্টিয়া ডিভিশনের পদায়ন। ২০১৪ সালের ৩রা এপ্রিল এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলেও কামরুল ইসলাম কুষ্টিয়ায় যোগদান করেন ১৩ এপ্রিল। একইসঙ্গে মেহেরপুর ডিভিশনেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব পান তিনি।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর ডিভিশনের দায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকেই যেন কামরুল পেয়ে যান আলাদীনের চেরাগ। দুর্নীতির মাধ্যমে ২ কোটি টাকা খরচ করে আইন ও বিধিবহির্ভূত পন্থায় তিনি রাজকীয় সাজসজ্জা ব্যবহার করে নিজের অফিসের সৌন্দর্যবর্ধন করেন। এই টাকার উৎস ছিলো নকল সিগারেট ও বিড়ির ব্যান্ডরোল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান আনন্দ বিড়ি, জনি বিড়ি, মনিপুরীসহ ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার শতাধিক প্রতিষ্ঠান। সেইসাথে তিনি নিজের পকেটে পুরেন ৫০ কোটি টাকা। এখান থেকেই শুরু হয় কামরুল ইসলামের দুর্নীতির উত্থান।

তৎকালীন এই জালিয়াতির কারণে দুদক কয়েকবার তার অফিসে অভিযান চালায়। কিন্তু চতুর কামরুল ইসলাম মোটা অংকের টাকা দিয়ে তা ম্যানেজ করে ফেলেন। এরপরও চলতে থাকে নানা অজুহাতে বিভিন্ন সিগারেট-বিড়ি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রিভেন্টিভের ভয় দেখিয়ে আরো বেশি করে অর্থ আদায়। একপর্যায়ে যশোর কমিশনারেট কার্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্নকারী এবং বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফুসে উঠে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

বিক্ষোভের জেরে ঢাকায় বদলী

কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ঘুষ, দুর্নীতি, বহু অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অন্যান্য অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে তাকে যশোর কমিশনারেট থেকে বদলী এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ।

ব্যবসায়ীদের সাথে অসদাচরণ, ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা, ব্যাপক হয়রানি, ঘুষবানিজ্য, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ অপকর্মের কারণে ব্যবসায়ী মহলের ক্ষোভের মুখে কামরুল ইসলামকে ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে বদলি করে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট; ঢাকা দক্ষিণে পদায়ন করা হয়।

ঢাকায় এসেও লাগামহীন

নানাবিধ অপকর্মের কারণে এবং বিক্ষোভের মুখে দ্রুত যশোর কমিশনারেট থেকে ঢাকায় বদলী করা হলেও আচরণগত দিক ও চাকুরির সূত্রে অনৈতিক সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকতে পারেননি কামরুল ইসলাম। বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। অপকর্ম করার জন্য ব্যাপক সুযোগ থাকায় লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে আকন্ঠ নিমজ্জিত কামরুল।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের জন্য বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আনার নিয়ম থাকলেও কামরুল ইসলামের হস্তক্ষেপ ও যোগসাজশে তা সরাসরি চলে যাচ্ছে রাজধানীর ইসলামপুর ও নয়াবাজারসহ অন্য পাইকারি মার্কেটে। এর ফলে সরকার প্রতি মাসে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

এছাড়া, বেশকিছু অখ্যাত ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের ফাইল ক্লিয়ারেন্সের বিনিময়ে তিনি বড় অংকের কমিশন নেন বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।

উৎকোচ ছাড়া নড়ে না ফাইল

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী দ্য ফিন্যান্স টুডের এই প্রতিবেদককে বলেন, “বন্ড লাইসেন্স নবায়ন কিংবা অডিট রিপোর্ট জমা দিতে গেলেই যুগ্ম কমিশনারের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা থাকা উপ-কমিশনার পূরবী সাহার মাধ্যমে বড় অংকের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তুচ্ছ অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয় কয়েক মাস।”

অভিযোগ সূত্রে সরেজমিন তদন্তে জানা গেছে, গত দুই বছরে কামরুল ইসলামের নির্দেশে বেশ কিছু বৈধ প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে শুধুমাত্র ‘অনৈতিক সুবিধা’ না পাওয়ার কারণে।

সম্পদের বিবরণ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামরুল ইসলামের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তার সম্পদের পরিমাণ। ঢাকার অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ছাড়াও কামরুলের নিজ গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার বড়চাপা গ্রামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তি। সেখানে তিনি বানিয়েছেন বিশালাকৃতির বাগানবাড়ি। গ্রামের মতো জায়গায় কামরুল ইসলাম দুর্নীতির টাকায় বানিয়েছেন আধুনিক সুইমিংপুল। সূত্র মতে, জাপানে কামরুল ইসলামের নিজ নামে গাড়ীর ব্যবসা ছাড়াও আবাসন খাতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে।

এদিকে, কামরুলের বিরুদ্ধে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরপরই তিনি সিঙ্গাপুরে চলে যান। এসময় শতকোটি টাকারও বেশী তিনি সেখানে পাচার করেন।

একাধিক বিশেষজ্ঞ মহল ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ‘বন্ড সেক্টরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দেশের রপ্তানিখাতকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুগ্ম কমিশনার মোঃ কামরুল ইসলামের সঙ্গে বারংবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভবপর হয়নি।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.